সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
শারীরিকভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে সক্ষম ব্যক্তির জন্য ফরজ নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করা আবশ্যকীয় বিধান। দাঁড়ানোর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বসে ফরজ নামাজ আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না। তবে কোনো ব্যক্তি যদি গুরুতর অসুস্থতা, শারীরিক ভারসাম্যহীনতা বা অনিবার্য অপারগতার কারণে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হন, তবে ইসলামি শরিয়তে তার জন্য বসে নামাজ আদায়ের পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে হবে; দাঁড়িয়ে না পারলে বসে এবং তাও সম্ভব না হলে শুয়ে নামাজ আদায় করার বিধান রয়েছে।
অন্য একটি হাদিসে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেছেন, মহানবী (সা.) একবার এক অসুস্থ রোগীকে দেখতে যান। তিনি দেখতে পান রোগীটি সিজদার জন্য সামনে একটি বালিশ রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বালিশটি সরিয়ে দেন। এরপর লোকটি একটি কাঠের টুকরা সামনে নিলে তিনি সেটিও ফেলে দেন। তখন তিনি নির্দেশ দেন যে জমিনে সরাসরি সিজদা করতে সক্ষম হলে সিজদা করবে, অন্যথায় ইশারার মাধ্যমে নামাজ আদায় করবে। একই সঙ্গে তিনি সিজদার ক্ষেত্রে রুকুর চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকে ইশারা করার নির্দেশনা দেন।
কারো পক্ষে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়ানো অসম্ভব হলে কিংবা দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়ে অসহনীয় কষ্ট হলে বসে ফরজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ।
শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে আঘাত পাওয়ার তীব্র আশঙ্কা থাকলেও এই শিথিলতা কার্যকর হয়। তবে সামান্য কষ্ট বা নিছক অলসতা ও অনুমানের ভয়ে বসে ফরজ নামাজ আদায় করলে সেই নামাজ শুদ্ধ হবে না। একই বিধান গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। গর্ভকালীন শারীরিক সক্ষমতা ও অসুস্থতার মাত্রার ওপর ভিত্তি করে তারা একজন অসুস্থ ব্যক্তির মতোই নামাজ আদায় করবেন এবং নিজস্ব শারীরিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত বিকল্পগুলোর যেকোনো একটি বেছে নেবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন