অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
ইসলামী শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে ইজাব-কবুল বা প্রস্তাব ও সম্মতি ছাড়া শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জনসম্মুখে পরিচয় দিলে তা বৈধ বিয়ে বলে গণ্য হয় না। বিয়ের মূল ভিত্তি হলো এই ইজাব ও কবুল, যা ন্যূনতম দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হতে হবে।
বিখ্যাত ফকিহ ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেছেন, বিয়ে সম্পন্ন হওয়া ইজাব ও কবুলের সঙ্গে শর্তযুক্ত। তাঁর মতে, শুধু স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হয় না। সুতরাং, কোনো পুরুষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে যদি বলে, ‘সে আমার স্ত্রী এবং আমি তার স্বামী’, আর নারীও একই কথা বলে, তাহলেও তাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে না। কারণ, এমন স্বীকারোক্তি মূলত পূর্ব থেকে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয় প্রকাশ করে, এর মাধ্যমে নতুন কোনো সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না। ফকিহ আলাউদ্দিন কাসানী (রহ.)-ও স্পষ্ট করেছেন যে, বিয়ের মূল ভিত্তি হলো ইজাব ও কবুল, যা নির্দিষ্ট কিছু শব্দের মাধ্যমে অথবা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো বিষয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
শুধুমাত্র সাক্ষীদের সামনে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মাঝে বিয়ে সংঘটিত হয় না। বিয়ের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ইসলাম মোটেও পছন্দ করে না। গোপন বিয়ে বা অভিভাবকহীন বিয়ে একটি অসামাজিক ও অকৃতজ্ঞতাপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহর রাসুল (সা.) এ বিষয়ে তাগিদ দিয়ে বলেছেন, ‘অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সংঘটিত হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১০১)। মুসনাদে আহমাদ-এর ৪/৫ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘বিয়ে করবে ঘোষণা দিয়ে।’
যুবকদের বিয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন নবী করিম (সা.)। বুখারি শরিফের ৫০৬৬ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়, কেননা তা চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করে।’ তাবরানির ৯৭২ নম্বর হাদিসে তিনি আরও বলেন, ‘যখন বান্দা বিয়ে করে, তখন সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূরণ করে। অতএব, বাকি অর্ধেকাংশে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’
বিয়েবহির্ভূত নারী-পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক রাখা এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে অবস্থান করাকে মারাত্মক কবিরা গুনাহ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা বনী ইসরাঈলের ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীলতা এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ জিনার দিকে নিয়ে যায় বা জিনার আশঙ্কা সৃষ্টি করে এমন সব কাজ থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। সহিহ বুখারির ৬২৪৩ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, দুই চোখের জিনা হলো কামনার সঙ্গে তাকানো, দুই কানের জিনা হলো অবৈধ কথা শোনা, জিহ্বার জিনা কথা বলা, হাতের জিনা স্পর্শ করা এবং পায়ের জিনা সেদিকে হেঁটে যাওয়া। অন্তর কামনা করে ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে, আর লজ্জাস্থান সেটিকে বাস্তবায়িত করে অথবা করে না।
সুনানে তিরমিজির ২১৬৫ নম্বর হাদিসে সতর্ক করে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন কোনো গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রিত হয়, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান। তাই বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক সবার জন্যই সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন