নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৩:২৪ পিএম
রিজিক বা জীবিকার সংস্থান আল্লাহতায়ালার এক বিশেষ নেয়ামত। হালাল রিজিক শুধু জীবনের মৌলিক প্রয়োজনই মেটায় না, বরং এটি ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। দেশের সাধারণ মানুষ হালাল রিজিকের জন্যই দিনরাত পরিশ্রম করেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, অজ্ঞাত কোনো কারণে আয়-রোজগারে আগের মতো বরকত বা প্রাচুর্য থাকে না এবং খুব কম সময়েই রিজিক কমে যেতে শুরু করে।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রিজিক কমে যাওয়ার পেছনে মানুষের নিজের কৃত কিছু কারণ রয়েছে, যেগুলোর ব্যাপারে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমার রব যাকে ইচ্ছা রিজিক দেন প্রশস্তভাবে, আবার যাকে ইচ্ছা দেন সীমিত করে। কিন্তু অনেক মানুষই এটা বুঝে না।’ (সুরা সাবা : ৩৬)যেসব কাজের কারণে রিজিকে বরকত কমে যায়, তার মধ্যে অন্যতম চারটি হলো হারাম উপার্জন, সুদের কারবার, প্রতারণা এবং অকৃতজ্ঞতা।
মানুষের রিজিক কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো হারাম বা নিষিদ্ধ পথে উপার্জন করা। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে মানবজাতি, তোমরা পৃথিবী থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু ভক্ষণ করো।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। রাব্বুল আলামিনের এই সুস্পষ্ট নির্দেশ অমান্য করে হারাম পথে উপার্জন করলে সেই রিজিকে বরকত থাকে না। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হালাল ও বৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করে, তাকে বরকত দান করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম : ১০৫২)
দ্বিতীয়ত, সুদের কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকা রিজিকে বরকত ধ্বংস করে দেয়। সুদের মাধ্যমে বাহ্যিকভাবে সম্পদ বৃদ্ধি পেলেও তা থেকে বরকত বা শান্তি নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আল্লাহ সুদকে ধ্বংস করে দেন এবং সাদাকাকে (দান) বর্ধিত করে দেন।’ (সুরা বাকারা : ২৭৬)
তৃতীয়ত, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মিথ্যা কসম খেলে আয়-উপার্জনের বরকত চলে যায়। আর বরকত চলে যাওয়া মানেই রিজিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বেচাকেনা করার সময় তোমরা অধিক কসম করা থেকে সাবধান থেকো। কারণ, মিথ্যা কসমের দ্বারা (সাময়িক) বিক্রি বেশি হয়, কিন্তু বরকত ধ্বংস হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম : ১৬০৭)
চতুর্থত, প্রাপ্ত নিয়ামতের জন্য অকৃতজ্ঞ থাকা। মানুষ যখন তার প্রাপ্ত রিজিক বা আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, তখন আল্লাহ সেই নিয়ামত ছিনিয়ে নেন। এতে মানবজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রিজিক সংকুচিত হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে মনে রেখো, আমার শাস্তি বড়ই কঠোর।’ (সুরা ইবরাহিম : ৭)
ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞরা (ফুক্বাহায়ে কেরাম) বলেন, উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য কারণে রিজিক কমে যেতে পারে, তবে এগুলোই প্রধান। তাই জীবনে বরকত ও প্রাচুর্য ধরে রাখতে এসব কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন