নভেম্বর ১, ২০২৫, ০৯:২২ পিএম
মহান আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীকে মানবজাতির জন্য ‘পরীক্ষার হল’ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। পরীক্ষার যেমন একটি ফলাফল থাকে, ঠিক তেমনি দুনিয়ার এই পরীক্ষারও চূড়ান্ত ফলাফল বা প্রতিদান দেওয়া হবে। সেই পুরস্কার ও শাস্তি নির্ধারণের জন্য কিয়ামতের দিন এক বিশাল আদালত কায়েম করা হবে, যাকে বলা হয় ‘হাশরের ময়দান’। সেদিন কবর থেকে উত্থিত হয়ে সকল মানুষ এই মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে।
হাশরের ময়দানে বিচারের কথা সামনে এলেই অনেকে জানতে চান যে, মানুষের মতো অন্যান্য প্রাণী, যেমন পশু-পাখিদেরও কি সেদিন বিচারের জন্য জমায়েত করা হবে? তাদেরও কি কোনো হিসাব-নিকাশ হবে?এসব প্রশ্নের উত্তরে সিলেটের চিকনাগুল (আজিজিয়া) মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা কয়েছ আহমদ গোয়াইনঘাটি বলেন, মানুষের মতো পশু-পাখিদেরও কিয়ামতের দিন একত্রিত করা হবে।
তবে তাদের বিচার মানুষের মতো হবে না। আল্লাহ তায়ালা পশু-পাখিকে জীবন, যৌবন বা ইবাদত সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন করবেন না। তাদের বিচার হবে শুধু একটি বিষয়ে, আর তা হলো একে অপরের প্রতি করা জুলুম বা অত্যাচার।মাওলানা কয়েছ আহমদ জানান, পশু-পাখিদের মধ্যে যারা দুনিয়ায় একে অন্যের প্রতি জুলুম করেছে, কিয়ামতের দিন তাদের সেই অপরাধের বিচার করা হবে অত্যন্ত কঠিনভাবে। এই জুলুমের অপরাধে আল্লাহ তায়ালা মানুষ, পশু-পাখি— কোনো প্রাণীকেই ছাড় দেবেন না।
বিচারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে হাদিসের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দুনিয়াতে যে মোরগ অন্য মোরগকে অকারণে আঘাত করেছে বা রক্তাক্ত করেছে, যে শিংওয়ালা ছাগল শিংবিহীন ছাগলকে আহত করেছে, সহজ কথায়, যেসব পশু অন্য পশুর ওপর জুলুম করেছে, হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা ওই মজলুম (অত্যাচারিত) পশুকে শক্তি দিয়ে জুলুমকারী পশুর ওপর পাল্টা আঘাতের সুযোগ করে দেবেন। এভাবে তাদের পরস্পরের দেনা-পাওনা ও প্রতিশোধ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আল্লাহ তাদের আদেশ দেবেন, ‘তোমরা মাটি হয়ে যাও।’ অতঃপর সব প্রাণী মাটিতে পরিণত হবে। তাদের জন্য জান্নাত বা জাহান্নাম কোনোটিই থাকবে না।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন