এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা শঙ্কার অজুহাতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে দুই দেশের ক্রিকেট কূটনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছিল।
সেই ‘ছেদ’ মেরামত করতে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (বিসিসিআই) একটি বিশেষ চিঠি দিয়েছে বিসিবি। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিসিবির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বরাতে জানা গেছে, বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম এই যোগাযোগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে সামনে বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক সিরিজ রয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।
তবে নির্দিষ্ট কোনো সিরিজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা তিনি খোলসা করেননি। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বকাপের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল এবং এখন তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।মূলত আইসিসির ভবিষ্যৎ সফরসূচি (এফটিপি) অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল।
তবে ভারতের অনুরোধে সেই সিরিজটি স্থগিত করা হয়েছিল। বিসিবি আশা করছে, সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটলে ২০২৬ সালের বাৎসরিক সূচিতে সিরিজটি সফলভাবে আয়োজন করা সম্ভব হবে। এছাড়া নারী ক্রিকেটসহ সামনে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ আয়োজক হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিসিবিকে এই কূটনৈতিক তৎপরতায় আরও উৎসাহিত করছে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লিটন দাসদের বিশ্বকাপে না পাঠানো এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া নাটকীয়তা বিসিসিআই-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিসিবি চাইছে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক সুসম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে। চিঠির জবাবে বিসিসিআই-এর মনোভাব কেমন হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর ভবিষ্যৎ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন