শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

আবারও চীনের কুর্নিশ পেলেন বাংলাদেশের মেয়েরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম

আবারও চীনের কুর্নিশ পেলেন বাংলাদেশের মেয়েরা

অনূর্ধ্ব–২০ নারী এশিয়ান কাপে শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে এই পরাজয়ের ব্যবধান ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের লড়াকু মানসিকতা। থাইল্যান্ডের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বিশেষ করে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে। 

চীনের একের পর এক বিপজ্জনক আক্রমণ ও ফ্রি কিকগুলো নিজের বিশ্বস্ত গ্লাভসে বন্দী করে তিনি প্রথমার্ধে শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য ব্যবধানে আটকে রাখতে সক্ষম হন।

বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলার এই ম্যাচে অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার পরিবর্তে মিলিকে শুরুর একাদশে নামিয়ে এক বড় চমক দেখান। কোচের আস্থার প্রতিদান দিতেও মিলি একদম ভুল করেননি। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ৮টি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে চীনের জয়কে কঠিন করে তোলেন। 

প্রথমার্ধের খেলা চলাকালীন চীনের পাঁচটি অনটার্গেট শট তিনি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। এর মধ্যে একটি বিপজ্জনক ফ্রি কিক আঙুলের ছোঁয়ায় পোস্টের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে নিশ্চিত গোল থেকে দলকে রক্ষা করেন তিনি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে চীন যখন ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে চলে এসেছিল, তখন মিলি সাহসী সেভ দিয়ে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য ম্যাচের চিত্র কিছুটা বদলে যায়। বিরতির ঠিক পরেই ৪৭ মিনিটে জেং ইউজুইয়ার চমৎকার কাটব্যাক থেকে ইউ শিনগি একটি উঁচুকোনা শটে বল জালে জড়ান। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লেও মিলি তাঁর মনোবলে চিড় ধরতে দেননি। 

৬৩ মিনিটে ওয়াং আইফাংয়ের ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া এক রকেট গতির শট তিনি কর্নারের বিনিময়ে সেভ করেন। তবে ম্যাচের শেষ দিকে এসে বাংলাদেশের ফুটবলারদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি ও চোটের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এই সুযোগেই ৮২ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে পাওয়া এক ফ্রি কিকে সরাসরি গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন সেই ওয়াং আইফাং। ডান পায়ের নিচু শটে বল পোস্টের বাঁ কোণ দিয়ে জালে জড়ালে বাংলাদেশের ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়।

সিনিয়র এশিয়ান কাপেও বাংলাদেশের মেয়েরা চীনের কাছে একই ব্যবধানে হেরেছিল। অনূর্ধ্ব–২০ আসরেও সেই ২-০ গোলের ফলই পুনরাবৃত্তি হলো। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১–০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। যদিও ফলাফল আশাব্যঞ্জক নয়, তবে চীনের মতো এশিয়ান জায়ান্টদের যেভাবে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।

 রণক্ষেত্রে মিলি আক্তারের অদম্য লড়াই আবারও প্রমাণ করল যে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে আগামীর সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। মূলত মিলির দৃঢ়তা না থাকলে এই পরাজয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। থাইল্যান্ডের মাঠ থেকে বাংলাদেশের মেয়েরা হয়তো জয় নিয়ে ফিরতে পারেননি, তবে চীনের ফুটবলারদের কাছ থেকে ঠিকই কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছেন।