শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

একই দিনে বিসিবি ছাড়লেন চার পরিচালক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১১:০৩ এএম

একই দিনে বিসিবি ছাড়লেন চার পরিচালক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) অস্থিরতার নতুন নজির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভার রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিনে পদত্যাগ করেছেন চারজন প্রভাবশালী পরিচালক। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জনসম্মুখে কোনো বড় সংকটের কথা অস্বীকার করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। 

এই চারজনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ২৫ সদস্যের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ থেকে এ পর্যন্ত মোট সাতজন পরিচালক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।

শনিবারের বোর্ড সভায় মূলত বিভিন্ন এজেন্ডা নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। তবে সভার কার্যক্রম শেষ হতেই একের পর এক পদত্যাগের খবর সামনে আসতে থাকে। সবার আগে পদত্যাগপত্র জমা দেন বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান এবং সিসিডিএমের ভাইস চেয়ারম্যান ফায়াজুর রহমান মিতু। তিনি তাঁর চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। 

এরপর মধ্যরাতে একে একে বোর্ড ছাড়ার ঘোষণা দেন ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম এবং সিকিউরিটি বিভাগের চেয়ারম্যান মেহরাব আলম চৌধুরী। সবশেষে রাতে মনজুর আলমের পদত্যাগের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়।জানা গেছে পদত্যাগ করা এই চার পরিচালকই গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ব্যক্তিগত ও অন্যান্য কারণে ইশতিয়াক সাদেক, আমজাদ হোসেন এবং এনএসসি মনোনীত পরিচালক ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল পদত্যাগ করেছিলেন।

 

বর্তমান বোর্ড নিয়ে ক্রিকেট মহলে যখন নানা আলোচনা চলছে ঠিক সেই সময়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গত নির্বাচনের অনিয়ম তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই গণপদত্যাগ ক্রিকেট পাড়ায় নতুন রহস্যের সৃষ্টি করেছে।বিসিবি সভাপতির দাবি অনুযায়ী বোর্ডে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও পরিচালকদের এভাবে সরে দাঁড়ানো নতুন কোনো সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এনএসসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই জমা পড়ার কথা রয়েছে। 

যেখানে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বেশ কয়েকজন পরিচালকের বক্তব্য ইতিমধ্যে রেকর্ড করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবির ভবিষ্যৎ কাঠামো কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে এখন অন্দরমহলের এই টানাপোড়েনই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিসিবি সভাপতি পরবর্তীতে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেন কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।