মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,
জাদুকরী প্রত্যাবর্তন

৭৬ মিনিট পিছিয়ে থেকে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারাল ফ্রান্স

স্পোর্টস ডেস্ক

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

৭৬ মিনিট পিছিয়ে থেকে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারাল ফ্রান্স

টানা ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ ১৪ মিনিটে প্রতিপক্ষকে যেন দুঃস্বপ্ন দেখার মতো এলোমেলো করে দিলো জিনেদিন জিদানের দল। বেলজিয়ামকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে নেশন্স লিগে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ফরাসিরা।

দলের এমন ঘুরে দাঁড়ানো পারফরম্যান্সকেই ফুটবলের প্রকৃত সৌন্দর্য বলে মন্তব্য করেছেন জিদান। ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসিদের দাপট ছিল স্পষ্ট। তবে একের পর এক আক্রমণ করেও ফিনিশিং ব্যর্থতায় তারা জালের দেখা পাচ্ছিল না। এরই মাঝে ম্যাচের ৩৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে বেলজিয়ামকে লিড এনে দেন দোদি লুকেবাকিও। প্রথমার্ধে এই পিছিয়ে থাকা অবস্থাতেই বিরতিতে যেতে হয় জিদানের শিষ্যদের।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের স্রোত বইয়ে দেয় ফ্রান্স।  বিশেষ করে বদলি হিসেবে নামা খেলোয়াড়রা ম্যাচের পুরো চিত্র বদলে দেন। ম্যাচের ৭২ মিনিটে মাঠে নামার মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় দেজিরে দুয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন। এরপর ৮১ মিনিটে রায়ান চেরকি গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। সবচেয়ে বড় চমক দেখান ৬০ মিনিটে বদলি নামা মাইকেল ওলিসে।ম্যাচের ৮৮ ও ৯১তম মিনিটে দুর্দান্ত দুটি গোল করে তিনি দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন। হারের শঙ্কা কাটিয়ে মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যে বেলজিয়ামকে তছনছ করে দেয় ফ্রান্স। শেষ পর্যন্ত এই রোমাঞ্চকর লড়াই রূপ নেয় তাদের বিশাল জয়ের আনন্দে।

কামব্যাকের এই জাদুকরী গল্প নিয়ে জিদান উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আজ রাতে যা হলো সেটাই ফুটবল, আমরা এটাকে ভালোবাসি। প্রথমার্ধে আমরা কিছু সমস্যায় পড়েছি, কিন্তু সেসবও খেলার অংশ। ভুলের পর সবকিছু শুধরে নেওয়া সবসময়ই ভালো এবং দ্বিতীয়ার্ধে অসাধারণ এক পারফরম্যান্সে সেটা ঠিক করেছি। প্রথমার্ধে বারবারই আমরা অল্পের জন্য মিস করেছি। কিন্তু পরে যেভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি তা অসাধারণ।

বিরতির পর বদলি নামা খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিয়ে ফরাসি কোচ আরও জানান, তারা জানতেন বদলি ফুটবলাররা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তারা উঁচুমানের ফুটবলার। কিন্তু জিদান আবার মনে করিয়ে দেন যে এটি ছিল সম্পূর্ণ দলীয় পারফরম্যান্স। গত দুই সপ্তাহ ধরেই সবাই ভালো খেলেছে এবং প্রত্যেকেই নিজের ভূমিকা পালন করেছে, যা কোচের কাছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়।

এই দুর্দান্ত জয়ে নেশন্স লিগের এ-১ গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে ফ্রান্স। চার ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইতালি। কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ম্যাচের নায়ক ওলিসে বলেন, এটি ছিল সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তারা কোচের নিয়ে আসা নতুন ধারণা অনুসরণ করেন এবং গত চারটি ম্যাচে তারা এটি ভালোভাবে করেছেন, ভবিষ্যতেও এভাবেই চালিয়ে যাবেন।