অক্টোবর ৭, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও এক তীব্র নীতিগত বিতর্কের মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে যথাযথ নাগরিকত্ব ও আইনি কাগজপত্র ছাড়াই কঙ্গো জাতীয় দলের গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে খেলানোর গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে এই তোলপাড় শুরু হয়েছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, কঙ্গোর এই অনিয়মের বিষয়ে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশ জানায়।
বিষয়টি নিয়ে ফিফার আইন বিভাগ তদন্ত চালিয়ে অভিযোগের স্পষ্ট সত্যতা খুঁজে পায়।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে অভিযুক্ত কঙ্গো ফুটবল দলের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বরং আইনি ও কারিগরি মারপ্যাঁচ দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে নাইজেরিয়ার তোলা অভিযোগটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্লে-অফ ম্যাচে জ্যামাইকাকে পরাজিত করে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে কঙ্গো।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি টুর্নামেন্টের মূল পর্বের শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও কঙ্গোর পোস্ট সামলান।
তীব্র সমালোচনার মুখে ফিফার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযোগ খারিজের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে তাদের একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত বিচারিক কমিটির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর কোনো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে তদন্ত চলাকালীন সময়ের এক স্পর্শকাতর ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
তদন্ত চলাকালেই কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ইনফান্তিনোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ভেরন মোসেঙ্গো-ওম্বা।
ঘনিষ্ঠ সহযোগীর রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতেই অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন বিশ্ব ক্রীড়াজগতে সমালোচনার ঝড় বইছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন