শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

জাহানারা আলম অবসর নেওয়ার আগে জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১১:০৫ এএম

জাহানারা আলম অবসর নেওয়ার আগে জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার আগে আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামতে চান জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম। গত প্রায় দুই বছর ধরে জাতীয় দলের কাঠামোর বাইরে থাকা এই অভিজ্ঞ পেসার খেলায় ফেরার তীব্র আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নীতিগত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড।

বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু ক্রিকেটবিষয়ক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে জাহানারা তার খেলায় ফেরার ইচ্ছার কথা বোর্ডকে জানিয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার কেবল জাতীয় দলই নয়, সমানতালে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত হতে চান। তার মূল লক্ষ্য, কোনো বিরতি বা আলোচনার বাইরে নয়, বরং মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকেই পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানা।

জাহানারা আলম বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, জাতীয় দলের হয়ে মর্যাদার সঙ্গে খেলে অবসর নেওয়ার তীব্র তাড়না থেকেই তিনি নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিসিবির নারী বিভাগের প্রধান জানান, জাহানারা তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে মাঠে ফেরার কথা বলেছেন। কর্মকর্তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের ব্যক্তিদ্বন্দ্ব বা অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থকেই সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন জাহানারা। এরপর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতি ও অবসাদের কথা জানিয়ে ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিরতি নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। এর পর থেকে জাতীয় দল কিংবা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো পর্যায়েই তাকে আর দেখা যায়নি।

মাঠের বাইরে থাকার সময়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিসিবির সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ তুলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন জাহানারা। পরবর্তীতে গঠিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মঞ্জুরুলকে আজীবন নিষিদ্ধ করে বিসিবি। ওই সময় ঘটনাটি দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

মাঠের লড়াইয়ে ফেরার অপেক্ষায় সাবেক এই তারকা পেসার। দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে সাবেক অধিনায়কের এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় ক্রিকেট বোর্ড শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রীড়াঙ্গন। দেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নেমে বিদায় নেওয়ার তার এই আকুল ইচ্ছা বাস্তবে রূপ পাবে কি না, তা নির্ধারণ করবে বিসিবির আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠক।