শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,
বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে: তাসকিনের তোপের পর আরভিনের ব্যাটে ২৭১ রান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:১২ পিএম

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে: তাসকিনের তোপের পর আরভিনের ব্যাটে ২৭১ রান

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ম্যাচে জয়ের জন্য টাইগারদের দরকার ২৭২ রান। শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) শুরুতে বল হাতে আগুন ঝরান তাসকিন আহমেদ। তার বিধ্বংসী স্পেলে সফরকারী জিম্বাবুয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে গভীর বিপদে পড়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে দলকে খেলায় ফেরান ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। ৫০ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৭১ রান।

টেলর ৮১ রানে বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দেন আরভিন। তিনি খেলেন ৯৩ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের ইনিংসের সূচনাটা ছিল চরম বিপর্যয়ের। প্রথম ওভারেই সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ওভারের শেষ বলে ব্রায়ান বেনেটকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। শুরুতে ফিল্ড আম্পায়ার ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত জানালেও রিভিউতে স্পষ্ট হয় যে বল ব্যাটে স্পর্শ করেনি। পরে বল প্যাডে আঘাত করায় লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ফলে শূন্য রানেই সাজঘরে ফিরতে হয় জিম্বাবুয়ের ওপেনারকে।

এরপর পঞ্চম ওভারে এসে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তার বলে লেগ বিফোর হয়ে মাঠ ছাড়েন আরেক ওপেনার বেন কারান। ১১ বলে ৬ রান করা কারান রিভিউ নিয়েও নিজের উইকেট বাঁচাতে পারেননি।

পরপর দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপাকে পড়া দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন তিনে নামা তাফাদজওয়া সিগা। উইকেটে এসে তিনটি চার মেরে ইতিবাচক শুরুর বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তবে তাসকিনের করা শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দেন উইকেটকিপার নুরুল হাসানের গ্লাভসে। ১৫ বলে ১৬ রান করে থামে সিগার লড়াই।

মাত্র সাত ওভারে ২৪ রানে তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

এরপরই শুরু হয় অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের প্রতিরোধ। সতর্ক ব্যাটিংয়ে ইনিংস মেরামত করে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে সিঙ্গেল ও ডাবলসের ওপর ভর করে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন এবং বাজে বল পেলেই সীমানাছাড়া করেন। ১৩ ওভার পেরোনোর পর থেকেই জিম্বাবুয়ের রানের চাকা দ্রুত ঘুরতে শুরু করে। ২৩ ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ একশ রানের ঘর স্পর্শ করে।

২৫তম ওভারে এসে সৌম্য সরকারের বলে এক রান নিয়ে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন টেলর। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের এটি ৪০তম ফিফটি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের দেখা পেলেন তিনি। এর আগে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ৫৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টেলর।

অন্য প্রান্তে সমান আত্মবিশ্বাসে ব্যাট চালিয়ে যান আরভিন। ৩০তম ওভারে রিশাদ হোসেনের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি একদিনের ক্রিকেটে নিজের ২৬তম ফিফটি পূর্ণ করেন। তাদের এই শক্ত জুটি ভাঙতে মরিয়া হয়ে ওঠা বাংলাদেশ দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে টেলরের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু বলের ইমপ্যাক্ট অফ স্টাম্পের বাইরে থাকায় বেঁচে যান তিনি। অন্যদিকে শরীফুল ইসলামের বলে আরভিনকে আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান ব্যাটার, কারণ বল স্টাম্পে আঘাত করছিল না।

অবশেষে ৩৭ দশমিক ২ ওভারে স্বস্তি এনে দেন অনিয়মিত বোলার সাইফ হাসান। তাকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে মোসাদ্দেকের তালুবন্দী হন ১০১ বলে ৮১ রান করা টেলর। এর মধ্য দিয়ে আরভিনের সঙ্গে তার দেড়শ রানের শক্ত জুটি ভেঙে যায়।

নিজের পরের ওভারে এসে বিধ্বংসী ব্যাটার সিকান্দার রাজাকেও দ্রুত প্যাভিলিয়নের পথ দেখান সাইফ। ৫ বলে ৪ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রাজা। দ্রুত দুই উইকেট হারালেও দমে যাননি আরভিন। রিশাদের এক ওভারেই তিনটি চার হাঁকিয়ে প্রতিপক্ষের চাপ গুঁড়িয়ে দেন এই বাঁহাতি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর টিভি ডট কম।