আগস্ট ২২, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জেলা রংপুর। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন রয়েছে এই জেলায়।ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে শুরু করে নদীমাতৃক বাংলার অপরূপ রূপ দেখতে অনেকেই ছুটে যান রংপুরে।শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শাপলা চত্বর, জাহাজ কোম্পানির মোড় এবং পায়রা চত্বর পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। রংপুরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ তাজহাট জমিদার বাড়ি। বিশাল আয়তনের এই রাজবাড়ীর স্থাপত্যশৈলী যেকোনো দর্শনার্থীকে মুগ্ধ করে।
মাত্র ত্রিশ টাকা প্রবেশমূল্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ঘুরে দেখা যায়। এছাড়াও রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সামনে অবস্থিত ঐতিহাসিক আবু সাঈদ চত্বর, যা সাম্প্রতিক সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে।প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য রয়েছে চিকলি ওয়াটার পার্ক।
বিশাল দিঘি, কৃত্রিম ঝরনা ও বড় মাছের সমারোহে ঘেরা এই পার্কটি অবসর সময় কাটানোর জন্য চমৎকার একটি জায়গা। শহর ঘুরে ক্লান্ত হলে লালবাগ এলাকায় পাওয়া যায় নানা রকম মজাদার খাবার ও তাজা ফলের শরবত। এখানকার আনারস ও আমের মিশ্রিত শরবত পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় এবং দামেও বেশ সস্তা। স্থানীয়দের কাছে সাতমাথা এলাকাটিও বেশ পরিচিত, যেখানে সাতটি ভিন্ন রাস্তার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে।
রংপুর ভ্রমণের পূর্ণতা পায় তিস্তা নদীর সৌন্দর্য উপভোগের মাধ্যমে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার সীমান্তে অবস্থিত পুরনো ও নতুন তিস্তা ব্রিজ পর্যটকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়। পুরনো রেল ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়ে চলা নদীর প্রবল স্রোত দেখতে রোমাঞ্চ অনুভব করেন অনেকেই। এই পুরনো ব্রিজটি লালমনিরহাট থেকে আটাশ কিলোমিটার এবং কুড়িগ্রাম থেকে ত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নদীতে দর্শনার্থীদের জন্য নৌকাভ্রমণের সুবিধাও রয়েছে, যা রংপুর ভ্রমণকে করে তুলতে পারে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন