ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম
বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে এবং ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের জনপদ। ক্ষণে ক্ষণে বয়ে চলা হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে জনজীবন বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং কুয়াশার প্রকোপ বাড়ার কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হবে।
আজ শুক্রবার রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যা হাড়কাঁপানো শীতের আগাম সংকেত দিচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন যে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।
এর প্রফলে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে তবে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক এলাকায় এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে যা বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপথ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বাভাবিক গতিকে সাময়িকভাবে ব্যাহত করতে পারে।আগামী ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত থাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। রবি ও সোমবার উত্তরাঞ্চল এবং নদী অববাহিকার জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশার তীব্রতা বেশি থাকবে।
এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির কারণে সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছাতে না পারায় অনেক জায়গায় দিনের বেলাতেও শীতের অনুভূতি আগের চেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।রাজধানী ঢাকাতেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে যা শীতজনিত নানা রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দিতে পারে। নদী অববাহিকার এলাকাগুলোতে যাতায়াতের সময় চালক ও সাধারণ মানুষকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শীতের এই দাপট আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন