শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

হাড়কাঁপানো শীতে বিপন্ন অবলা প্রাণীরা

মোঃ ফরহাদ হোসেন

ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০৮:৪৫ পিএম

হাড়কাঁপানো শীতে বিপন্ন অবলা প্রাণীরা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

হিমেল বাতাসে যখন মানুষ ঘরের ভেতর লেপ-কম্বলে আশ্রয় খোঁজে, তখন দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে শীতের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যেতে হয় অবলা প্রাণীদের। মানুষের আরাম-আয়েশের আড়ালে নীরবে কষ্ট বয়ে বেড়ায় তারা কারও চোখে পড়ে না, কারও সহানুভূতিও জোটে না।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার জগদল গ্রামে শীতের গভীর রাতে দেখা মিলেছে এমনই এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

 পরিত্যক্ত একটি দেয়ালের গায়ে গা ঘেঁষে বসে আছে কয়েকটি বিড়ালছানা। একে অপরের শরীরের উষ্ণতাই যেন তাদের একমাত্র আশ্রয়। কনকনে ঠান্ডায় কুঁকড়ে যাওয়া দেহ, আতঙ্কে ভরা চোখ সব মিলিয়ে স্পষ্ট, তারা শুধু শীতের সঙ্গেই নয়, লড়ছে জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধেও।

এ বিষয়ে সমাজকর্মী সাদেকুল ইসলাম বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব বিড়ালছানার খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় মানুষ ব্যস্ত থাকে নিজ নিজ কাজে, আর রাত নামলেই অবলা প্রাণীগুলো হারিয়ে যায় অন্ধকার আর উপেক্ষার ভেতর।প্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, তীব্র শীতে ছোট প্রাণীদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে না পারা। নিরাপদ আশ্রয় ও নিয়মিত খাবারের অভাবে অনেক সময় তারা নীরবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে যার খবর রাখার কেউ থাকে না।

তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে সামান্য উদ্যোগই পারে একটি প্রাণ বাঁচাতে। তাই বাড়ির এক কোণে শুকনো কাপড়, পুরোনো কার্টন কিংবা খড় দিয়ে ছোট আশ্রয় তৈরি করা, সঙ্গে সামান্য খাবার ও পানি রাখাই হতে পারে অবলা প্রাণীদের জন্য জীবনরক্ষার আশ্রয়।

এদিকে আজ (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
শীতের এই দুঃসময়েও যদি মানুষের উষ্ণতা পৌঁছে যায় অবলা প্রাণীদের কাছে তবে হয়তো কিছু নীরব জীবন বাঁচতে পারবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।