রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

বিরলে আলু বীজ উৎপাদনে নতুন জাত ‍‍`সানতানা‍‍` রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

মোঃ আতিউর রহমান

নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম

বিরলে আলু বীজ উৎপাদনে নতুন জাত ‍‍`সানতানা‍‍` রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বিরলে আলু বীজ উৎপাদন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিরলের রসুলশাহাপুর ব্লকের পুরিয়া গ্রামে কৃষক মতিউর রহমানের জমিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দিনাজপুর বিএডিসি হিমাগারের উপ-পরিচালক (আলু বীজ) কৃষিবিদ আবু জাফর মোঃ নেয়ামত উল্লাহ।

এ সময় সহকারী পরিচালক মোসাঃ সুলতানা রাজিয়া এবং সহকারী পরিচালক সাহাব উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।উপ-পরিচালক (আলু বীজ) কৃষিবিদ আবু জাফর মোঃ নেয়ামত উল্লাহ জানান, ব্রি ধান-৭৫ (BRRI Dhan-75) উঠার সঙ্গে সঙ্গে তারা জমিতে উন্নতমানের দু'টি জাতের আলু বীজ রোপণ করছেন।

এই জাতগুলো হলো 'এক্সাস্টারিজ' (Exastariz) ও নতুন জাত 'সানতানা' (Santana)।তিনি উল্লেখ করেন, সানতানা আলু বীজটি বিএডিসি আলু-৩ নামে পরিচিত। এটিতে ড্রাই মেটার বা শুষ্ক পদার্থের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ, যা অন্যান্য আলুর চেয়ে অনেক বেশি।

এ কারণে এই আলু শিল্পে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।নেয়ামত উল্লাহ আরও জানান, কৃষি একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিষয়। চাষাবাদে উৎসাহিত করতে কৃষকদের ভর্তুকি মূল্যে সার দেওয়া হচ্ছে এবং ঋণ সহায়তাও প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, “এবার আলুর বীজের দাম কম হওয়ায় আবাদ খরচও কম পড়বে। আমরা যদি আলুর উৎপাদন বাড়াতে পারি, তাহলে তা বিদেশেও রপ্তানি করতে পারব। আমাদের দপ্তর থেকে কৃষকদের আলু চাষে সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়।

কৃষক মতিউর রহমান জানান, এই জমিতে তিনি নিয়মিত বিএডিসি’র পক্ষ থেকে বীজ আলু উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, নভেম্বর মাসের মধ্যে আলু বীজ রোপণের উত্তম সময়। তিনি উৎপাদিত আলু বিএডিসিতে বীজ হিসেবে সরবরাহ করেন। দো-ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করার জন্য মাঝারি থেকে উঁচু জমি নির্বাচন করা হয়। এই জমিতে ১১০-১১৫ দিনে উৎপাদিত ব্রি ধান-৭৫ আবাদ করে আলু তোলার পর আবার ইরি-বোরো ধান রোপণ করা সম্ভব হয়।

মতিউর রহমান আরও জানান, এক একর জমিতে আলু উৎপাদনে সবকিছু মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি আলুর সঠিক মূল্য নির্ধারণের জন্য একটি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “গত বছর আমাদের আলুতে লোকসান হয়েছিল। বিএডিসি’র নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আলুর সঠিক মূল্য নির্ধারণের সময় যেন একজন কৃষক প্রতিনিধি রাখা হয়।