বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

চিরিরবন্দরে রঙিন ফুলকপি চাষে মতিয়ারের বাজিমাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

চিরিরবন্দরে রঙিন ফুলকপি চাষে মতিয়ারের বাজিমাত

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বিষমুক্ত রঙিন ফুলকপি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন কৃষক মতিয়ার রহমান। নতুন জাতের এই বেগুনি ও কমলা রঙের ফুলকপি চাষে একদিকে যেমন বাম্পার ফলন হয়েছে, অন্যদিকে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এই কৃষক।

উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের কাজিপাড়ার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে এবছর তিনি প্রথাগত চাষের বাইরে গিয়ে ৪০ শতক জমিতে বেগুনি (ভেলেনটিনা), কমলা (কেরটিনা) ও খয়েরি রঙের ফুলকপি এবং ১৫ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন।

কৃষক মতিয়ার জানান, টিভির প্রতিবেদনে রঙিন কপি দেখে এটি চাষের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। শুরুতে বীজের জন্য বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ব্যর্থ হলেও পরে সিনজেন্টা কোম্পানির প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি বীজ সংগ্রহ করেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়াই কেবল জৈব সার ব্যবহার করে তিনি এই চাষাবাদ করেছেন।চারা রোপণের ৭০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ফলন আসা শুরু হয়। বর্তমানে বাজারে সাধারণ সাদা ফুলকপি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও রঙিন কপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। মতিয়ার জানান, ২০ হাজার টাকা খরচে তিনি ইতোমধ্যেই বিনিয়োগের টাকা তুলে নিয়েছেন এবং আরও অন্তত ৩০ হাজার টাকার কপি বিক্রির আশা করছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩২০ শতক জমিতে ১৬টি স্কোয়াশ এবং ১৮০ শতক জমিতে ৬টি রঙিন ফুলকপির প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। নশরতপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, রঙিন ফুলকপিতে সাধারণ কপির চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি ক্যারোটিন রয়েছে, যা ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, "টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উচ্চ মূল্যের এসব সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণ বেশি এবং বাজারে চাহিদাও ব্যাপক। নতুন এই চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারিত হলে স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।