বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

প্যাশন ফ্রুট চাষে মেহেরপুরের চাষি মিঠুর এক মৌসুমে দশ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

প্যাশন ফ্রুট চাষে মেহেরপুরের চাষি মিঠুর এক মৌসুমে দশ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন

সবুজ পাতার আড়ালে থোকায় থোকায় ঝুলছে গোলাকার অপরিচিত এক ফল, যা দেখতে গোলগাল এবং খোসা বেশ শক্ত। কাঁচা অবস্থায় ফলটি সবুজ থাকলেও পাকার সাথে সাথে এর গায়ের রং রূপ নেয় হলুদ কিংবা গাঢ় বেগুনিতে। বিদেশি এই ফলটির পরিচিত নাম প্যাশন ফ্রুট হলেও দেশের মাটিতে অনেকেই একে ডাকেন ‘আনারকলি’।

মেহেরপুরের গবিপুর গ্রামে এই অপ্রচলিত বিদেশি ফলের পরিকল্পিত বাগান গড়ে তুলে স্থানীয় কৃষিতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মিঠু। গতানুগতিক সবজি আবাদ করতে গিয়ে বারবার লোকসানের মুখে পড়ে বিকল্প কোনো লাভজনক ফসলের সন্ধান করছিলেন তিনি। সেই খোঁজের অংশ হিসেবেই নতুন আবাদের অনুপ্রেরণা জোগায় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।

চলতি মৌসুমে ৫০ শতক জমিতে ২৩২টি চারা রোপণ করে এই বাগানের সূচনা করেন তিনি।

মাচা তৈরি এবং চারা রোপণসহ পরিচর্যা বাবদ প্রথম পাঁচ মাসে তাঁর মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে তাঁর বাগানের উৎপাদিত ফল বাজারে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই গাছে একবার চারা রোপণ করলে টানা আট থেকে ১০ বছর নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়। সার্বিক উৎপাদন ও বাজারের বর্তমান দর বজায় থাকলে এক মৌসুমেই বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

ফল বিক্রিতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা বিপণন জটিলতা পোহাতে হচ্ছে না।

উদ্যোক্তা মিঠু জানান, পাইকার ও পর্যটকেরা সরাসরি জমিতে এসেই নগদ মূল্যে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি পর্যটন এলাকা এবং রপ্তানির বাজারেও এই ফলের বেশ কদর রয়েছে। এই ফল আবাদের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের তেমন কোনো প্রয়োজনীয়তা পড়ে না; সম্পূর্ণ জৈব সারেই ফলে পর্যাপ্ত পুষ্টি মেলে এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় এতে রোগবালাইয়ের আক্রমণও অনেক কম।

শুরুর দিকে এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ দেখে অনেকে নানা রকম কটূক্তি করলেও এখন তাঁদের অনেকেই বাগান দেখতে ভিড় করছেন।

বাগান দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলের প্রশংসা করার পাশাপাশি নিজেরাও বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরুর বিষয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। দর্শনার্থীরা জানান, মেহেরপুর জেলায় এটিই প্রথম আবাদ এবং স্বাদ চমৎকার হওয়ার পাশাপাশি এর ব্যাপক বাজারমূল্য তাঁদের বাণিজ্যিকভাবে এই চাষে আগ্রহী করে তুলছে।

কম খরচে রাসায়নিকমুক্ত এমন লাভজনক ফলের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে সব ধরনের কারিগরি ও পরামর্শ সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ফলটির বাজারদর বেশ ভালো, পাইকারিতে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পানিতে গুলিয়ে জুস তৈরি করলে এটি প্যাকেটজাত পানীয়র মতো চমৎকার স্বাদ তৈরি করে। কৃষকদের জন্য এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।