সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
বন অধিদপ্তরের অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যক্তিপর্যায়ে নিয়ম মেনে হরিণ পালন করা সম্ভব হলেও এটি উন্মুক্ত বাজারে বাণিজ্যিক বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থার অধীনে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হরিণ পালনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কতটা হরিণ পালন করা যাবে এবং কতটুকু আয়তনের জায়গায় তা রাখা হবে, বন বিভাগের সেসব শর্ত মেনেই কেবল এদের লালন-পালন করতে হয়। সাধারণ গৃহপালিত পশুর মতো এদের কেনাবেচা নিষিদ্ধ। তবে বংশবৃদ্ধির পর সংখ্যা অতিরিক্ত হলে তা অন্য কাউকে দান করা যায় কিংবা সরকারি চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা সম্ভব।
একটি কৃষি খামারে আলাদাভাবে ৬৬ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে হরিণের বিশেষ শেড। সেখানে মূলত চিত্রা হরিণ ও মায়া হরিণ পালন করা হচ্ছে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হরিণের মাথায় শিং থাকে, তবে স্ত্রী হরিণের ক্ষেত্রে শিং গজায় না। স্ত্রী হরিণ আকারে তুলনামূলক বড় হয়। হরিণ সাধারণত বছরে এক থেকে দুটি বাচ্চা দেয়। পাঁচ বছরে এক জোড়া হরিণ থেকে অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বাচ্চা পাওয়া সম্ভব। খাবারের তালিকায় ছাগলের মতো কাঁচা ঘাস ও লতাপাতা বেশি পছন্দ করে এই প্রাণী। খামারে এদের নিয়মিত মৌসুমি সবজি যেমন লাউ, চালকুমড়া, শীতকালে ফুলকপি ও বাঁধাকপি খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি ভুসি, অঙ্কুরিত বুটের ছাল এবং দানাদার পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়। পরিচর্যাকারীদের হিসাব অনুযায়ী, একটি পূর্ণবয়স্ক হরিণের পেছনে মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকা খাবার খরচ হয়।
হরিণ অত্যন্ত চঞ্চল ও দ্রুতগামী প্রাণী হওয়ায় এরা সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে কিছুটা ভয় পায়। নিয়মিত যারা খাবার ও যত্ন দেন, তাদের দেখলে এরা স্থির থাকে এবং কাছে আসে। কিন্তু অপরিচিত মানুষ দেখলে শেডের ভেতর ছোটাছুটি শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সমন্বিত কৃষি প্রকল্পে হরিণের পাশাপাশি আড়াইশ গরু, দেড়শ ছাগল, পাঁচশত হাঁস এবং দেশি মুরগি ও কবুতরও লালন-পালন করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন