অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
বিশ্বকাপ জয়, আটটি ব্যালন ডি’অর এবং অসংখ্য দলীয় ও ব্যক্তিগত শিরোপা অর্জনের পর আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসির মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন এক রাজকীয় স্বীকৃতি।
ফুটবল মাঠে অবিস্মরণীয় অবদান রাখার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার’ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়ার উপস্থিতিতে ওভিয়েদোর তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করবেন।
ইতিহাসে প্রথম কোনো ফুটবলার এককভাবে এই পুরস্কার পাচ্ছেন।
মেসির জীবনে স্পেন বিশেষ আবেগের জায়গা জুড়ে রয়েছে, কারণ ক্যারিয়ারের সোনালী দিনগুলোর দীর্ঘ সময় কেটেছে এই দেশেই। মাঠের অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক এই সম্মাননার ক্ষেত্রে অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
গত ৩ জুন স্পেনের ওভিয়েদোতে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসিকে ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। মোট ২৭ জন মনোনীত ব্যক্তির মধ্য থেকে বিচারকমণ্ডলী বা জুরি বোর্ড চূড়ান্তভাবে এই আর্জেন্টাইন তারকাকে নির্বাচিত করে। মেসির দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ার, ধারাবাহিক সাফল্য, মাঠের নম্র আচরণ এবং শিশু শিক্ষা ও চিকিৎসায় দাতব্য কার্যক্রম জুরি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯৮১ সালে প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত হয় প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং খেলাধুলাসহ মোট আটটি ভিন্ন বিভাগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুগান্তকারী অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংস্থাকে প্রতি বছর এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে সম্মাননাপ্রাপ্তকে প্রখ্যাত স্প্যানিশ শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা একটি বিশেষ ভাস্কর্য, একটি আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র, প্রতীকী ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য প্রদান করা হয়।
ফুটবল বিশ্বে এই সম্মাননার ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০০২ সালে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল জাতীয় দল এবং ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর স্পেন জাতীয় দল যৌথভাবে এই স্বীকৃতি লাভ করেছিল। এ ছাড়া ২০১২ সালে স্পেনের দুই কিংবদন্তি ফুটবলার ইকার ক্যাসিয়াস ও জাভি হার্নান্দেজ যৌথভাবে এই পুরস্কার জিতেছিলেন।
তবে ইতিহাসের পাতায় একক কোনো ব্যক্তি-ফুটবলার হিসেবে এবারই প্রথম এই রাজকীয় সম্মাননা উঠছে মেসির হাতে। ইতিপূর্বে খেলাধুলা ক্যাটাগরিতে বিশ্বখ্যাত টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদালের মতো শীর্ষ ক্রীড়াবিদেরাও এই সম্মান অর্জন করেছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন