অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সরাসরি বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। টেলিভিশন চ্যানেলটির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ওই ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়েছিল।
পরে কর্তৃপক্ষ ভিডিওগুলো সরিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে। তবে এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন পরীমনি। তার অভিযোগ, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তার স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, মানসিক প্রশান্তি এবং পেশাগত কাজকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
গত সোমবার রাতে অ্যাকাউন্টটিতে বিতর্কিত কনটেন্টগুলো আপলোড করা হয় এবং পরদিন মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সেগুলো অনলাইনে দৃশ্যমান ছিল। ততক্ষণে প্রথম দুটি ভিডিওর দর্শক সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার এবং এক লাখ ৪৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সেই সঙ্গে সহস্রাধিক প্রতিক্রিয়া এবং বিপুলসংখ্যক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জমা পড়ে।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় পরীমনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র একটি ফটোকার্ডে দুঃখ প্রকাশ কোনো সমাধান নয়। এই ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিজীবন চরম সংকটে পড়েছে এবং এর সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির।
অনলাইনে তৈরি হওয়া ট্রোল ও বিদ্বেষমূলক পরিস্থিতির কারণে নিজের সন্তানদের ছবিও প্রকাশ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ঘটনার পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে মাছরাঙা টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির মাল্টিমিডিয়া ম্যানেজার জানিয়েছেন, অননুমোদিত প্রবেশের মাধ্যমেই এসব কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। দায়ীদের চিহ্নিত করতে তারা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
একই ধরনের কৃত্রিম বা ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে সামগ্রিক মানসিক যন্ত্রণা ও পেশাগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য পরীমনি সরাসরি সম্প্রচারমাধ্যমটির দায়িত্বহীনতাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন