রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,
রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে নেই: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে নেই: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুরে রাজধানীর ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সমবেত ভক্ত ও সুধীজনদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি, বিদ্বেষ ও সংঘাতের দাবানল জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করছেন। দেশের এই চিরায়ত সম্প্রীতি অটুট রাখা এবং আগামীতেও তা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একই সঙ্গে দেশের সম্প্রীতিময় পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন মহলের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

পূজার ধর্মীয় ও সামাজিক দর্শনের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দুর্গোৎসবের মূল ভাবনার সঙ্গে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিজয়ের চেতনা গভীরভাবে জড়িত। অতীতেও এদেশে অন্যায় ও অশুভ শক্তির আবির্ভাব হয়েছিল এবং সচেতন জনতা সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অশুভ শক্তির হাত থেকে জাতীয় মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

মণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও মণ্ডপগুলোতে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনে উদ্যোগী হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সুপরিকল্পিতভাবে সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রাচারের কারণে সাধারণ ভক্তদের অবাধ প্রবেশ কিছুটা সীমিত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর বদলে হাজারো সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে আসতে পারলে তিনি আরও আনন্দিত হতেন।

আগামী দিনগুলোতে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে পূজা উদযাপনের জন্য বাড়তি ও কঠোর কোনো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজন পড়বে না বলে তিনি জোরালো প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।