বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রীতম হাসান ও শেহতাজের সংসারে কেন ফাটল ধরল

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

প্রীতম হাসান ও শেহতাজের সংসারে কেন ফাটল ধরল

‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওর শুটিং থেকে শুরু হওয়া বন্ধুত্ব ও প্রেম অবশেষে চার বছরের দাম্পত্য জীবনের পর বিচ্ছেদে রূপ নিয়েছে সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান এবং অভিনেত্রী শেহতাজ মনিরা হাশেমের। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলাদা পোস্ট দিয়ে ভক্তদের তারা জানিয়ে দেন যে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে।

তবে এই ঘোষণাটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তে আসেনি বলে দাবি করেছেন তাদের ঘনিষ্ঠজনেরা।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুজনের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আরও বেশ কিছুদিন আগে থেকেই। জীবনযাপনের ধরনে পরিবর্তন, একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাওয়া এবং প্রীতম হাসানের সংগীতাঙ্গনে অতিব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিনের সমীকরণ ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে।

তাদের সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল ২০১৭ সালে ‘জাদুকর’ গানের দৃশ্যধারণের সেটে। কাজের সূত্রে পরিচয় গভীর প্রেমে রূপ নেওয়ার পর প্রীতম নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রায় পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেটের শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা রিসোর্টে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

বিয়ের অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্য ও কাছের বন্ধুদের উপস্থিতি ছিল। এমনকি সেই বিশেষ দিনে নিজের বিয়ের পোশাকের নকশাও নিজে করেছিলেন শেহতাজ।

বিয়ের পর ২০২৩ সালে নিজেদের নতুন বাসায় ওঠেন এই দম্পতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া কিংবা বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে অংশগ্রহণ দেখে বাইরে থেকে কোনো সমস্যার আঁচ পাওয়া যায়নি।

কিন্তু এর মধ্যেই প্রীতমের পেশাগত জীবনে এক বিরাট রূপান্তর আসে। কোক স্টুডিও বাংলার কাজের পাশাপাশি ‘তুফান’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

চলচ্চিত্রটির গান ও অভিনয় তাকে দেশ-বিদেশে ব্যাপক ব্যস্ততার মধ্যে ঠেলে দেয়। এরপর ‘বরবাদ’ সিনেমার ‘চাঁদমামা’ ও ‘দ্বিধা’ এবং ‘প্রিন্স’ সিনেমার ‘জ্বালা জ্বালা’সহ একাধিক জনপ্রিয় গান তাকে অতিরিক্ত ব্যস্ত করে তোলে। একের পর এক কনসার্ট ও নিয়মিত আন্তর্জাতিক সফরের কারণে তাদের যৌথ সময় কাটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।

কাছের মানুষদের মতে, ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই দুজনের দূরত্ব বাড়তে থাকে।

সময়ের অভাবে একে অপরের প্রতি আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়, যা শেহতাজের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। বন্ধুদের উপস্থিতিতেও কখনো কখনো দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

যদিও এই ভাঙন ঠেকাতে দুজনই শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়ার চেষ্টা করেছিলেন। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও সংগীতশিল্পী জেফার রহমান ও কনটেন্ট নির্মাতা রাফসান সাবাবের বিয়েতে তাদের হাসিমুখে একসঙ্গে উপস্থিত হতে দেখা গিয়েছিল।

কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে দূরত্ব তখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। বিয়ের পর শেহতাজ শোবিজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও প্রীতমের ব্যস্ততা বাড়ছিল বহুগুণ।

বিচ্ছেদ ঘোষণার প্রায় দুই মাস আগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে একাকী কানাডায় গিয়েছিলেন শেহতাজ। সেখান থেকে দেশে ফেরার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

ফেসবুক বার্তায় দুজনই অতীতের সম্পর্কের প্রতি পূর্ণ সম্মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে অনর্থক আলোচনা বা বিতর্ক না করার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

বিচ্ছেদের পর উভয়ই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চাইছেন; শেহতাজ আবার নাটক ও গানে নিয়মিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং প্রীতম তার নতুন সংগীত প্রযোজনায় মনোযোগ দিচ্ছেন।