অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
ইউটিউবে শতকোটি ভিউয়ের অনন্য এক মাইলফলক অতিক্রম করেছে জনপ্রিয় সামাজিক মেগা ধারাবাহিক নাটক ‘দুনিয়া টাকার গোলাম’। চলতি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে যাত্রা শুরু করা এই ধারাবাহিকটি ইতিমধ্যে ৪৬তম পর্ব পেরিয়ে ইতিহাস গড়েছে। কোনো মেগাস্টার বা বড় পর্দার পরিচিত মুখ ছাড়াই কেবলমাত্র নিটোল গল্প ও বাস্তবসম্মত অভিনয়ের ওপর ভর করে এই সাফল্য এসেছে।
প্রযোজনা সংস্থা প্র্যাঙ্ক কিংস এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিত নাটকটি সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ১১ ঘণ্টায় এক কোটি ভিউ অর্জনের রেকর্ডও গড়েছে।
ধারাবাহিকটির পরিচালক সাইদুর রহমান সবুজ জানান, গতানুগতিক পারিবারিক ড্রামার গণ্ডি ভেঙে গল্পের মধ্যে হালকা অ্যাকশন ও সাসপেন্সের মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, তারকাবহুল কাস্টিংয়ের পেছনে না ছুটে সঠিক চিত্রনাট্য ও সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ওপর জোর দেওয়াটাই এই সাফল্যের মূল কারণ। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির প্রাথমিক চিন্তা থাকলেও পাইরেসির ব্যাপক ঝুঁকি থাকায় নিয়মিত নিয়মেই ইউটিউবে পর্বগুলো প্রচারের সিদ্ধান্ত নেন তারা। আগামী দিনে নাটকের প্রযোজনা মান ও কাস্টিং আরও সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান নির্মাতা।
নাটকের গল্প ও ভাবনার রূপকার আর্থিক সজীব। তিনি জানান, টাকার মোহে মানুষের বিবেক, সামাজিক অবস্থান এবং সম্পর্কের ভাঙন কীভাবে ঘটে, তা ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব জীবনের টানাপড়েন থেকেই গল্পে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
রক্তের সম্পর্কের চেয়ে কাগুজে নোট কীভাবে বড় হয়ে ওঠে এবং অর্থসংকটে পরিবারে কতটা মানসিক নিপীড়ন সহ্য করতে হয়, মধ্যবিত্ত সমাজের সেই অপ্রিয় সত্যই নাটকটির মূল প্রতিপাদ্য।
আর্থিক সজীব বলেন, প্রতিটি পর্বের শেষে দর্শকের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ধরে রাখতে পুরো দল মিলে সুচিন্তিত পরিকল্পনা করা হয়। শতকোটি ভিউয়ের এই অর্জন তিনি দর্শকদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। কোনো পূর্বনির্ধারিত ছকে আটকে না রেখে গল্পের স্বাভাবিক গতি ও জীবনঘনিষ্ঠ ছন্দ অনুযায়ী ধারাবাহিকটির সমাপ্তি টানা হবে বলে জানান এই চিত্রনাট্যকার।
ধারাবাহিকটিতে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রবীণ অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম।
মূল চরিত্রগুলোতে সাবলীল অভিনয় করেছেন শোয়েব শান্ত, লামহা আনসু ও তৈয়েবা তুলনা। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে নজর কেড়েছেন শফিউল রাজ, ঈশান সাব্বির, সুমন পাটোয়ারী, মুকুল সিরাজ, ফাবিহা ফ্রিয়া, বাঁধন খান, মাসুদ আলম, রাজ আরিয়ান এবং মাসুদ হারুন।
নাটকটির প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য খুব বেশি দীর্ঘ না হওয়া এবং টানটান দৃশ্যবিন্যাসের কারণে সাধারণ দর্শকদের আগ্রহ শেষ পর্যন্ত অটুট থাকছে।
এর পাশাপাশি টিকটক, ফেসবুক রিলস এবং ইউটিউব শর্টসের মতো আধুনিক সামাজিক মাধ্যমে নাটকের আবেগঘন সংলাপ ও মুহূর্তগুলো ভাইরাল হওয়া নতুন দর্শক টানতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
চল্লিশতম পর্ব পার হওয়ার পর কিছু দর্শক গল্প টেনে লম্বা করার অভিযোগ তুললেও সাম্প্রতিক পর্বগুলোর উন্মাদনা সেই সমালোচনাকে ছাপিয়ে গেছে। তথাকথিত মেগাবাজেট ও সুপারস্টার নির্ভরতার বাইরে দাঁড়িয়ে এই সামাজিক বার্তাভিত্তিক প্রযোজনাটি বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন