শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬,

মজুরি বোর্ড গঠন হচ্ছে আগামীকাল, শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৩১, ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

মজুরি বোর্ড গঠন হচ্ছে আগামীকাল, শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান মন্ত্রীর

পোশাক শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামীকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বিজয়নগরের শ্রম ভবনে পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের পর শ্রমিকদের আর কোনো আন্দোলনে থাকার অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, গতকাল শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সরকারের টানা পাঁচ ঘণ্টার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবারই বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। পোশাক কারখানার মালিকদের দুই প্রধান সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) শ্রমিকদের এই যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। ফলে মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে আর কোনো পক্ষীয় বিরোধ বা মতভিন্নতার সুযোগ নেই।

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের ব্যাপারেও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

মালিকপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা সাধারণ কারখানা মালিকদের সাথে বসে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, বোর্ড গঠন ও বকেয়া মেটানোর যৌথ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ভাঙচুর চালানো বা কারখানা বন্ধ রাখার কোনো যুক্তি নেই। এমন আচরণ দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি পোশাক শিল্পকে চরম ক্ষতির মুখে ফেলবে।

আন্দোলনের পটভূমিতে বহিরাগতদের উস্কানির অভিযোগ তুলে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন কারখানায় সাধারণ শ্রমিকরা নিয়মমাফিক কাজ করতে চাইলেও বাইরে থেকে কিছু ব্যক্তি এসে তাদের উত্তেজিত করছে। প্রকৃত শ্রমিক কারা কাজ করছেন আর কারা আন্দোলনের নামে পরিস্থিতি অশান্ত করছেন, তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যেই শ্রমিকদের মাসিক বেতন পরিশোধ করার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে।

মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কারখানা যদি বন্ধ রাখা হয় তবে উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে। ক্রেতাদের হাতে সময়মতো তৈরি পোশাক পৌঁছাতে না পারলে মালিকপক্ষ প্রাপ্য অর্থ পাবে না, যার প্রত্যক্ষ বিরূপ প্রভাব পড়বে পরবর্তী মাসের শ্রমিকদের বেতন-ভাতায়।

শিল্পের টেকসই সুরক্ষার স্বার্থে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এবং বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিমসহ উভয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।