অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই বোর্ড গঠনের জন্য ইতিমধ্যে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের কাছ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধি মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নাম চূড়ান্ত হলেই মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি গেজেট জারি করা হবে এবং এরপরই বোর্ড তার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করবে। চলতি মাসের মধ্যেই এই গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শ্রম সচিব এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিগত প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।
বোর্ডের প্রশাসনিক রূপরেখা ব্যাখ্যা করে আব্দুর রহমান তরফদার জানান, গঠিত হতে যাওয়া এই মজুরি বোর্ডে একজন চেয়ারম্যান, একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন স্থায়ী শ্রমিক প্রতিনিধি এবং একজন স্থায়ী মালিক প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করবেন।
এর বাইরে সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে একজন শ্রমিক প্রতিনিধি এবং একজন মালিক প্রতিনিধিকে বোর্ডে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত বিভিন্ন আর্থিক ও পারিপার্শ্বিক সূচক যাচাই-বাছাই করা হবে বলে উল্লেখ করেন সচিব।
তিনি জানান, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, প্রতিবেশী দেশগুলোতে পোশাক খাতের প্রচলিত মজুরির হার এবং দেশের বিভিন্ন কারখানার বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা গভীরভাবে বিবেচনায় নেবে মজুরি বোর্ড। এসব সূচক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই শ্রমিকদের নতুন মজুরি চূড়ান্ত করা হবে। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে মন্ত্রণালয় নিজের সিদ্ধান্তে এককভাবে কোনো মজুরির অঙ্ক চাপিয়ে দেবে না।
মজুরি বোর্ড গঠনের প্রাথমিক দাপ্তরিক অগ্রগতি তুলে ধরে সচিব জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রম অধিদপ্তরকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠির আলোকে শ্রম অধিদপ্তর শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষকে তাদের মনোনীত প্রতিনিধির নাম প্রস্তাবের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন জমা হওয়ার সাথে সাথেই মন্ত্রণালয় গেজেট প্রকাশ করবে।
চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলন প্রসঙ্গে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব তুলে ধরেন তিনি।
আব্দুর রহমান তরফদার উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সরকারের সার্বিক সদিচ্ছা রয়েছে এবং তাদের কল্যাণে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। শ্রমিক নেতাদেরও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা জোরদারে প্রশাসনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা যুগোপযোগী করতে সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ চলছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একাধিক সমন্বয় বৈঠক সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্ধারিত সভায় শ্রমিকপক্ষ, মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের যৌথ উপস্থিতিতে মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রম বিধিমালা চূড়ান্তকরণ এবং সামগ্রিক শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
একই সাথে তিনি সতর্ক করে জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে সরকার যেমন আলোচনায় আন্তরিক, তেমনি এই আন্দোলনকে ইস্যু করে বাইরের কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন তৈরি পোশাক শিল্পে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসন সতর্ক নজরদারি বজায় রেখেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন