অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
সৌদি আরবে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত পাঁচজন নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ওই পাঁচ ব্যক্তি একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মারাত্মক বিস্ফোরক ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তাদের আঞ্চলিক সদর দপ্তর এবং টহল যানবাহনে সরাসরি গুলি চালিয়ে হামলা পরিচালনা করেছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে তাদের হেফাজতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র ও তাজা গুলি সংরক্ষণের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে।
একই সাথে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে সহিংস সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো এবং নিষিদ্ধ কার্যক্রমে অর্থায়ন ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির উপযুক্ত আদালতের বিচারিক রায় ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়।
এর আগে পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক আচরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার মক্কা অঞ্চলে তাদের এই সাজা কার্যকর করা হয়েছিল।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বশীর ও সিতি আক্তার।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল, মসজিদের অভ্যন্তরে অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করেছিল। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের এজলাসে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
আইনি শুনানির পর বিচার বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির নির্দেশ দেয়। ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী স্থান ও সময়ের সর্বোচ্চ পবিত্রতা লঙ্ঘন বিবেচনায় নিয়ে এবং আদালতে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় চূড়ান্ত করা হয়।
তবে কোন ধরনের সুনির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের এই চরম দণ্ড দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সৌদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিশদ ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইনের কঠোর বাস্তবায়নে সৌদি আরব সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। পবিত্র স্থানের মর্যাদা নষ্ট করা কিংবা ধর্মীয় স্থাপনায় যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির সরকার।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন