অক্টোবর ৪, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটায় মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এটি হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের জার্সিতে ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। এই বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে পুরো আর্জেন্টিনায় এখন ব্যাপক উন্মাদনা বিরাজ করছে। কিংবদন্তি এই তারকার বিদায়ে যেন বিন্দুমাত্র ত্রুটি না থাকে, সেজন্য সব ধরনের আয়োজন ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করে রেখেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
লাখ লাখ ভক্তের মতো প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির বুকেও এখন আবেগের ঢেউ। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে সেদিন এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হবে উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, যদি এমন পাঁচটি স্টেডিয়ামও থাকত, তাহলেও দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যেত। সব জায়গা থেকেই তিনি বার্তা পাচ্ছেন জানিয়ে কোচ বলেন, এখন আসলে আর কিছু বলার নেই, সময়টা শুধু উপভোগ করার বাকি। মেসির বিদায়ের পর যে স্মৃতিকাতরতা তৈরি হবে, সেটি স্মরণ করে তিনি জানান, এখন আসলেই মেসি আর জাতীয় দলে থাকবেন না এবং এই ভেবে সবাই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন; এমনকি মেসি নিজেও। মনুমেন্তালের মাঠে মেসি পা রাখার মুহূর্ত থেকেই দিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস করেন এই বিশ্বকাপজয়ী কোচ।
এই বিশেষ দিনের অংশ হতে পেরে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্কালোনি জানান, তাদের হাতে এখনও দুটি অনুশীলন বাকি আছে এবং অবশিষ্ট সময়টুকু তারা উপভোগ করতে চান। মেসির সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে দলের সঙ্গে থাকার অদম্য ইচ্ছাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সবসময় অনুশীলনে সবার আগে আসত এবং সবার শেষে মাঠ ছাড়ত। প্রতিটি ম্যাচকে সে যেভাবে দেখে তা সতীর্থদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মাঠে তাকে পাওয়ার অনুভূতি একদম অনন্য এবং ফুটবল মাঠে সে যা করে তা অন্য কারও মাঝে দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন কোচ। তবে মেসিকে ছাড়াই আর্জেন্টিনা নিজ গতিতে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
গত ৩১ আগস্ট দুই পৃষ্ঠার এক হাতে লেখা চিঠিতে জাতীয় দল থেকে অবসরের এই আকস্মিক ঘোষণা দেন মেসি। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের হতাশা এবং এরপরই বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ফুটবল বিশ্বকে এই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। এরপরই তাকে যথার্থ সম্মান জানিয়ে ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে বিদায় নেওয়ার এই সুযোগ তৈরি করে দেয় দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন