অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
ভারতে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে চলা বিক্ষোভের জেরে আটক হওয়ার একদিন পর মুক্তি পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। শনিবার দিল্লির একটি আদালত তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। আদালত শর্ত হিসেবে তাকে ৫০ হাজার রুপির বন্ড জমা দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার দিল্লির প্রাণকেন্দ্র কনট প্লেস এলাকায় `লেহরা দো তিরঙ্গা` বা জাতীয় পতাকা ওড়াও কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় তাকে আটক করেছিল পুলিশ। চলমান নির্বাচনি জালিয়াতির অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কর্মসূচি শুরুর আগেই পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
একই দিন কর্মসূচিস্থল থেকে ভারতের অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ আইনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার ভোরের দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে অভিজিৎকে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীদের জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসে মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল। মূলত নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সড়কে যান চলাচল সচল রাখতেই তাদের আগাম আটক করা হয়েছিল। তবে পুলিশের কড়া নজরদারি ও বাধা সত্ত্বেও কিছু শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী ক্ষুদ্র পরিসরে মিছিল বের করেন।
অভিজিতের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১২৬ ও ১৭০ ধারায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নতুন মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
এর আগেও গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজের ভেতর থেকে তাকে আটক করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেই ঘটনাতেও শান্তি বিনষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়। তখন এক বছরের জন্য শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হয়েছিল তাকে।
ছাড়া পাওয়ার পর দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন আইসা সভাপতি নেহা বোরা। পুরো আটক প্রক্রিয়াকে বেআইনি দাবি করে তিনি ভোটার তালিকার বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। একইসঙ্গে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও তাকে কারাদণ্ড দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা করতে কনট প্লেস এলাকা থেকে প্রায় দেড়শ জনকে আটক করা হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক এলাকা ঘিরে রেখেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে বিশেষায়িত র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদের মোতায়েনের পাশাপাশি আশপাশের পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন