নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
২০০ কোটি রুপির বহুল আলোচিত অর্থ আত্মসাত ও চাঁদাবাজি মামলায় নতুন করে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। দিল্লির আলোচিত প্রতারক সুকেশ চন্দ্রশেখরকে ঘিরে দায়ের হওয়া এই মামলায় রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে নির্ধারিত দিনে হাজির হওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনি নির্দেশ থাকলেও সেখানে উপস্থিত হননি এই তারকা।
ব্যক্তিগত ও পেশাগত পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে নোরার আইনজীবীরা সশরীরে হাজিরা দেওয়া থেকে অব্যাহতির আবেদন জমা দেন। কিন্তু আদালত সেই আবেদনের ওপর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে নোরার নামে নতুন করে সমন জারি করে আগামী ৬ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বিচারক।
দিল্লি পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইংয়ের (ইওডব্লিউ) দায়ের করা আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত মামলাটিতে গত ২ নভেম্বর নোরা ফাতেহিকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্দেশিত দিনে তিনি আদালতে আসেননি।
অভিনেত্রীর আইনি প্রতিনিধিরা আদালতকে জানান, অত্যন্ত অল্প সময়ের নোটিশে আইনি সমন হস্তান্তরিত হওয়ায় এবং আগে থেকেই বাণিজ্যিক পেশাগত চুক্তি নির্ধারিত থাকায় ওই দিনে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয়নি। এ কারণেই আদালতের কাছে সশরীরে হাজিরা মওকুফের আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়।
তবে আদালতের সময়সীমা না মানায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট বিচারক। বিচারিক আদালতের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, বিচারিক কার্যক্রম বা আদালতের তলবকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ আইনত নেই। পরবর্তীতে শুনানির কার্যক্রম স্থগিত রেখে আগামী ৬ নভেম্বর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয় এবং নোরার প্রতি পুনরায় তলবনামা পাঠানো হয়।
আদালতের এই কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষাপটে নোরার আইনি টিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিনেত্রী কোনোভাবেই অভিযুক্ত বা অপরাধী নন। মূল তদন্তে সহায়তা করতেই তাকে কেবল একজন সাক্ষী হিসেবে ডেকে পাঠিয়েছে আদালত।
তাদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ব্যাখ্যায় বলা হয়, এটি পরিষ্কারভাবে জানানো হচ্ছে যে নোরা ফাতেহি এই মামলায় কোনো অন্যায় বা অপরাধ করেননি এবং তিনি অভিযুক্তও নন। আদালতের পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার স্বার্থেই সাক্ষী হিসেবে তাকে তলব করা হয়েছে।
কিন্তু ২০০ কোটি রুপির আর্থিক প্রতারণাকাণ্ডে সুকেশ চন্দ্রশেখর ও তার স্ত্রী লীনা মারিয়া পলের সাথে কেন নোরা ফাতেহির নাম যুক্ত হলো, তা নিয়েও রয়েছে তদন্তের নানা তথ্য। ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) অনুসন্ধানে সুকেশ দম্পতির সাথে নোরার সরাসরি যোগাযোগের প্রমাণ মেলায় তার নাম সামনে আসে।
পরবর্তী সময়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়ে নোরা ফাতেহি স্বীকার করেছিলেন, সুকেশের একটি বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিনিময়ে তাকে নগদ টাকার বদলে দামি উপঢৌকন নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই বিলাসবহুল উপহারের তালিকায় ছিল একটি বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ি এবং আন্তর্জাতিক গুচি ব্র্যান্ডের বহুমূল্য ব্যাগসহ বিভিন্ন বস্তু।
তবে সুকেশের সাথে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা অনৈতিক সম্পর্কের কথা শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন এই অভিনেত্রী। ঘটনাটি সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক মনে হওয়ার পরপরই তিনি সুকেশের সাথে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।
পরবর্তী তদন্ত ধাপে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নোরা ফাতেহির আনুষ্ঠানিকভাবে জবানবন্দি নথিভুক্ত করে পুলিশ ও ইডি। যার ভিত্তিতে আদালতের চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) নোরার নাম একজন রাষ্ট্রপক্ষীয় সাক্ষী হিসেবে যুক্ত করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন