রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,
আদালতের সমন

নোরা ফাতেহিকে দিল্লির আদালতের সমন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম

নোরা ফাতেহিকে দিল্লির আদালতের সমন

ছবি: সংগৃহীত

২০০ কোটি রুপির অর্থ আত্মসাৎ মামলায় বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহিকে সমন জারি করেছেন ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি আদালত। তবে এবার তাকে কোনো অভিযুক্ত হিসেবে নয়, বরং মামলার সরকারি সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে তাকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার দাখিল করা মামলার তৃতীয় সম্পূরক অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) নোরা ফাতেহির নাম সরকারি সাক্ষী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই আদালতের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এর আগে এই আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধানে তাকে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা নোরা স্বীকার না করলেও, সুকেশ একাধিকবার তাদের ঘনিষ্ঠতার দাবি করেছিলেন। গত আগস্ট মাসে কারাগার থেকে পাঠানো একটি খোলা চিঠিতে সুকেশ চাঞ্চল্যকর সব দাবি তোলেন। ওই চিঠিতে তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত কথোপকথন ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশের পাশাপাশি অভিযোগ করা হয় যে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় একটি বিলাসবহুল বাড়ি কেনার জন্য তিনি নোরাকে কয়েক কোটি রুপি দিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে অত্যন্ত মূল্যবান ব্র্যান্ডের ব্যাগ, প্রসাধনী ও দামি গাড়ি উপহার হিসেবে দেওয়ার কথাও সুকেশ দাবি করেছিলেন।

সুকেশ আরও দাবি করেন, আরেক বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন এবং জ্যাকুলিনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে তাকে নানাভাবে প্ররোচিত করতেন। পাশাপাশি বিলাসী জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য নোরা ঘন ঘন ফোন করে অর্থ চাইতেন বলেও চিঠিতে অভিযোগ করেন তিনি।

এইসব অভিযোগ সামনে আসার পর আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্তকারী সংস্থা নোরাকে আদালতের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন করে পাওয়া এই সমন প্রসঙ্গে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে গত আগস্টে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবেগাপ্লুত হয়ে নোরা জানিয়েছিলেন, এই মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর তার অভিনয় ক্যারিয়ার মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে একের পর এক বড় কাজ ও সিনেমা হাতছাড়া হয়েছে এবং একাধিক শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপন সংস্থাও তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে।