রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

তানিয়া বৃষ্টি নয় মাস পর অভিনয়ে ফিরে শোনালেন জটিল অসুস্থতার দিনগুলোর কথা

বিনোদন ডেস্ক

নভেম্বর ১, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

তানিয়া বৃষ্টি নয় মাস পর অভিনয়ে ফিরে শোনালেন জটিল অসুস্থতার দিনগুলোর কথা

ছবি: সংগৃহীত

মস্তিষ্কে টিউমার ও দুটি বড় অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ নয় মাসের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে শুটিংয়ে ফিরেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ইকসান রনির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘অংশীদার’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন তিনি। সম্প্রতি নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে।

কাজে ফিরেছেন তিনি।

কাজে ফেরা প্রসঙ্গে তানিয়া বৃষ্টি জানান, এর আগে একই পরিচালকের ‘বাবাও মানুষ’ নাটকে কাজ করে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিলেন। নতুন নাটকটির মূল গল্প গড়ে উঠেছে পারিবারিক সম্পত্তিতে নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইকে কেন্দ্র করে। সমাজে কন্যাসন্তানদের এখনো যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়, বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার যে চেষ্টা দেখা যায়, সেই বাস্তবতা নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।

কাজে ফেরার পাশাপাশি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অসুস্থতার ভয়াল দিনগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী।

তিনি জানান, গত ডিসেম্বরে একটি নাটকের শুটিং চলার সময় থেকেই তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়। টানা চার দিন অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর পঞ্চম দিনে হঠাৎ বমি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সন্ধ্যায় ডাক্তারি পরীক্ষায় মাথায় টিউমার ধরা পড়ে। প্রাথমিক ধারণায় তিনি ভেবেছিলেন একটি অস্ত্রোপচার করালেই পুরোপুরি সেরে উঠবেন।

তবে সবচেয়ে বড় মানসিক আঘাতটি আসে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে। সেখানে এমজিএম হাসপাতালের একজন অনকোলজিস্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে জানান, তার জীবনকাল হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। চিকিৎসকের মুখে বেঁচে থাকার এই সময়সীমা শুনে তিনি ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ঢাকায় প্রথম অস্ত্রোপচারের স্মৃতি মনে করে তানিয়া জানান, অপারেশনের আগে মাকে জড়িয়ে ধরে অনেক কেঁদেছিলেন এবং সহকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছিলেন। সেই আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচার সফল হলেও আসল শারীরিক সংকট তৈরি হয় চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময়। শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়। ওই সময় নিজের কোনো জ্ঞান না থাকলেও সারারাত তার মায়ের বুকফাটা কান্না আর প্রার্থনার কথা তিনি পরে শুনেছেন।

অসুস্থতার ওই সংকটকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়েছিল। এই প্রসঙ্গে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, খবরটি শুরুতে মানসিক কষ্ট দিলেও পরে তিনি উপলব্ধি করেছেন কিছু মানুষ কেবল অনলাইন ভিউ বাড়ানোর জন্যই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অপপ্রচার চালায়। তাই এখন তিনি এসব মিথ্যা তথ্যকে পাত্তা দেন না।

চিকিৎসার পুরো সময়ে শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মীরা পাশে ছিলেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তানিয়া। মোশাররফ করিম, নিলয়, প্রযোজক আলী বশীর, তুহিন ও রাফাতসহ বহু নির্মাতা ও সহশিল্পী নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। তবে বাবা না থাকায় এই কঠিন সময়ে মা ও বোনই ছিলেন তার সবচেয়ে বড় মানসিক শক্তি। সারা রাত শয্যাপাশে জেগে থেকে দুশ্চিন্তায় তার মা নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান তিনি।