নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে সংলাপ শুরুর উদ্যোগকে ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করলেও এই মুহূর্তে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা দেখছে না তেহরান। গত আট মাস ধরে চলা চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আমেরিকানদের সঙ্গে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি জানান, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে পর্যালোচনা করেছে তেহরান। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে ইরানের নির্দিষ্ট শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হলে তবেই ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আলোচনার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর শেষ করার পরদিনই ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল দোহায় পৌঁছেছে। চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করেছিলেন। সার্বিক কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে আরাঘচির একজন বিশেষ সহযোগী বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন।
সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্র তৈরির মার্কিন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে আরাঘচি সতর্ক করেন, এই চিঠি পাঠানোর নেপথ্যে যদি ওয়াশিংটনের কোনো বিভেদ তৈরির উদ্দেশ্য থাকে, তবে সেটি তাদের আগের ভুলগুলোর তালিকায় আরেকটি নতুন ভুল হিসেবে যুক্ত হবে।
তিনি সরাসরি বৈঠকের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, গণমাধ্যমে যা শোনা যাচ্ছে তা নিছক অনুমান। তেহরানের শর্তগুলো একদম স্পষ্ট এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা সেগুলো নিয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনার পর বাস্তবায়নের সময়সীমা পাঁচ দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে নামিয়ে আনার একটি খসড়া সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে তেহরান যে শর্তগুলো সামনে রেখেছে তার মধ্যে প্রধান হলো ইসলামাবাদ স্মারকলিপির পর আরোপিত যাবতীয় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো। তেল রপ্তানির ছাড় পুনর্বহাল, কাতারে আটকে থাকা অর্থসহ বিদেশে থাকা সব ধরনের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে ওমানের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত জাহাজ চলাচলের নির্দিষ্ট রুটকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং বিকল্প পথগুলো বন্ধ রাখতে হবে।
কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও নতুন করে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতায় রয়েছে তেহরান।
আরাঘচি সাফ জানান, নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, আগের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা হয়েছে এবং নতুন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।
একই দিনে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো নতুন সামরিক হামলার জবাব দেওয়া হবে ‘ব্যাপক শক্তি’ প্রয়োগ করে। কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে এই প্রতিরোধ সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ কখন থামবে, তা কেবল ইরানই ঠিক করবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে মাঠে রয়েছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সংঘাতের স্থায়ী অবসানে কাতারের নেতৃত্বে চলা এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন