নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
ইরানের ওপর নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে আগের চেয়ে আরও কঠোর ও তীব্র আঘাত হানা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের সামরিক ও কৌশলগত সম্পদের একটি নতুন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় আটকে না থেকে বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে কার্যকর হবে।
যেকোনো নতুন সামরিক উসকানির মুখে কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা না মেনে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি।
জেনারেল আবদোল্লাহি উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতার এই দিকনির্দেশনা বর্তমানে সামরিক কমান্ডার ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রধান যুদ্ধকৌশল হিসেবে কাজ করছে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে আশ্বস্ত করে জানান, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী অটল থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আধুনিক ও উন্নত সমরাস্ত্র এবং সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূখণ্ডের বাইরে গিয়ে শক্তিশালী আঘাত হানতে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষকে নতুন রণকৌশলে হতচকিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, বিস্তৃত অঞ্চলের স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে এই নতুন সামরিক পরিকল্পনার আওতাভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, কোনো নতুন হঠকারিতা দেখা দিলে তার জবাব দেওয়া হবে সম্পূর্ণ অভিনব কৌশলে। এই জবাব হবে অকল্পনীয় এবং তা পূর্ববর্তী তৃতীয় যুদ্ধের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ বেশি তীব্র ও কার্যকর প্রমাণিত হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানান, নতুন সংঘাত শুরু হলে তার সমাপ্তি কখন ও কীভাবে ঘটবে, তা তেহরানই নির্ধারণ করবে এবং প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেই কেবল সেই লড়াই থামবে।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত হেনেছিল ইরানের বাহিনী। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিপক্ষের বাণিজ্যিক ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তেহরানের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে নতুন হামলা হলে প্রচলিত সামরিক ঘাঁটির বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট ডেটা সেন্টার, সমুদ্রের তলদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বা সাবমেরিন কেবল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো তাদের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন