বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
কূপ খনন

৫৯২ কোটি টাকায় দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস’

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

৫৯২ কোটি টাকায় দুই কূপ খনন, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ‘বিপুল গ্যাস’

তিতাসে ৫৯২ কোটি টাকায় দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত হবে। আমদানি নির্ভরতা কমানোই প্রধান লক্ষ্য।

তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ শীর্ষক এই কূপ খনন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য সেই সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেট্রোবাংলার অধীনস্থ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিজিএফসিএলের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকায় চূড়ান্ত করা হয়।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, এই দুটি নতুন কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হবে। এতে করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর দেশের নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১৫০টি এবং ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করছে সরকার।

প্রকল্প প্রস্তাবনার আর্থিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে কূপ দুটি থেকে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট আহরণ সম্ভব হতে পারে। কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের দর হিসেবে উৎপাদিত এই গ্যাস ও উপজাতের মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি সাত লাখ টাকা, যার মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বিক্রয়মূল্য বিবেচনা করলে একই পরিমাণ গ্যাসের বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ছয় হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বর্তমানে বিজিএফসিএল তাদের পাঁচটি সক্রিয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে আসছে। এর মধ্যে এককভাবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮টি খননকৃত কূপের মধ্যে চালু থাকা ২৩টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করা হয়। জরিপের তথ্য পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেড ওই এলাকায় ১৬টি নতুন এবং সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি। বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, পরামর্শক নিয়োগ এবং গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপনসহ সব অবকাঠামো প্রস্তুত করা হবে বলে পরিকল্পনা কমিশন নিশ্চিত করেছে।