বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় জামায়াত আমিরের উদ্বেগ

ছবি: দিনাজপুর টিভি আর্কাইভ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অবরোধকারীদের গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

নাগরিকদের জীবন নিয়ে অবহেলা বন্ধের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। জামায়াত আমির লেখেন, সাজেককে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভিত্তিহীন বা ভুল তথ্যের পেছনে না ছুটে সঠিক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে দ্রুত সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে তামাশা করার অধিকার কারও নেই উল্লেখ করে তিনি সময় থাকতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উজোবাজারে সাজেক সড়কের ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকবাহী যানবাহন পার করার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের সূচনা হয়। আন্দোলনকারী ও সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং একপর্যায়ে যৌথবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তবে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও সকালে সাজেক থেকে ছেড়ে আসা প্রায় তিন হাজার পর্যটকের গাড়ি বহরকে কড়া নিরাপত্তাবলয়ে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কাছাকাছি নিরাপদে পৌঁছে দেয় প্রশাসন।

বর্তমানে অবরোধকারীরা উজোবাজারে অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক যৌথবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার যৌথ বিবৃতিতে এই সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, জনসংহতি সমিতির (সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যরা এখনো সাজেকের বিভিন্ন স্থানে মহড়া দিচ্ছে, গ্রামবাসীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘরছাড়া করছে এবং ফোন কেড়ে নেওয়ায় জুমচাষিরা ফসল পরিচর্যা করতে যেতে পারছেন না। প্রশাসন দৃশ্যমান অভিযান না চালানোয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা জানান, প্রশাসনের সাথে আলোচনা চললেও তাদের তিন দফা দাবির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হলেও প্রশাসন কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা করেনি।

পাল্টা বক্তব্যে এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি দাবি করেন, এসব ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের সাজানো অপপ্রচার; সাজেকে নিজেদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র নিপীড়ন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই তারা এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, এলাকায় দফায় দফায় গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে, তবে আটকে পড়া সব পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে সাজেক থেকে গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।