বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান

বস্ত্র ও পাটশিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

বস্ত্র ও পাটশিল্পের সম্পদ কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর

বস্ত্র ও পাটশিল্পের বন্ধ এবং উৎপাদন কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান অবকাঠামো ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, এসব শিল্পসম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যাপক হারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দুটি মিল পরিদর্শন করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলস ও এশিয়াটিক কটন মিলস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির সার্বিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত অবস্থা, বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন। একই সফরে তিনি চট্টগ্রামের নো ভিউ গেস্ট হাউসও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট মিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি, উৎপাদন কর্মকাণ্ড এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান। এ সময় খাত দুটির উন্নয়ন, সরকারি শিল্পসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্র ও পাটশিল্পের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং এক বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও কারিগরি সক্ষমতার সঠিক সমন্বয় ঘটাতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, খাতের বিরাজমান সংকটগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিলে উৎপাদন এবং কাজের সুযোগ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

পাটের বৈশ্বিক বাজার ও টেক্সটাইল খাতের গুরুত্ব আলাদাভাবে তুলে ধরেন তিনি।

শরীফুল আলম বলেন, পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল এবং পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বিশ্ববাজারে এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। অপরদিকে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত দেশের সার্বিক শিল্পায়ন, বৈদেশিক রপ্তানি আয় এবং জাতীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রাখছে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার জন্য দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ ও উৎপাদন ব্যবস্থা সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারলে সামগ্রিক শিল্প খাতের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

সরকারি সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানোকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদের অপচয় রোধ করে উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং তরুণদের জন্য নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকল করপোরেশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সমন্বিত ও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ কবির উদ্দিন সিকদার এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম জাহিদ হাসানসহ মন্ত্রণালয় ও উভয় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।