বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

নৌপথে মোংলা গেলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

নৌপথে মোংলা গেলেন প্রধানমন্ত্রী

নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ান সফর শেষে তিনি মোংলার পথে রওয়ানা হন। উপকূলের মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

এর আগে সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি দাকোপের নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান এবং সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। বিদ্যালয় মাঠে নামার পর নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন সরকারপ্রধান। তাকে একনজর দেখার জন্য সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান, যা ঘিরে পুরো এলাকায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।

সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন ও জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই সফরে অংশ নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নলিয়ানে কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক প্রহরায় রাখা হয় এবং মাঠটিতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়া সফরের সুবিধার্থে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পরই নলিয়ানে অবতরণ করেন সরকারপ্রধান। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটিতে পৌঁছানোর পর তিনি স্থানীয় একটি সভায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তার।

সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা চলছে। বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে বড় বিনিয়োগ এবং নতুন কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে নলিয়ানের স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন নদীভাঙন রোধ, সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি সরকারি পদক্ষেপ।