বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,
পেঁপে চাষে সাফল্য

পেঁপে চাষে লাখপতি হওয়া কৃষকের মুখে আত্মনির্ভরশীলতার গল্প

কৃষি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১১:৩১ এএম

পেঁপে চাষে লাখপতি হওয়া কৃষকের মুখে আত্মনির্ভরশীলতার গল্প

পেঁপে চাষে সফলতার মধ্য দিয়ে আর্থিক সচ্ছলতা ও জীবনে পরম শান্তির দেখা পেয়েছেন গাজীপুরের এক কৃষক। ঠিকাদারি ব্যবসা ও ব্রয়লার মুরগি পালনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত বাবার অনুপ্রেরণায় কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন তিনি।

গাছগুলোকে তিনি এখন টাকার গাছ বলে মনে করেন।

শুরুর দিকে রোদে পুড়ে কাজ করা, কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এবং মাথায় করে কৃষিপণ্যের বোঝা বহন করতে তার যথেষ্ট কষ্ট হতো। তবে পারিবারিক বসতবাড়ির আঙিনায় গোবরের স্তূপের পাশে প্রাকৃতিকভাবে দুই-একটি পেঁপে গাছ থেকে টানা দুই থেকে তিন বছর ফলন পেতে দেখে তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। সেখান থেকেই বাবার দিকনির্দেশনায় প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে মাত্র ১০৫টি পেঁপের চারা লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। প্রথম ধাপে ওই ১০৫টি গাছ থেকেই তিনি সমস্ত খরচ বাদে ১ লাখ টাকারও বেশি লাভ করেন।

প্রথম ধাপের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে তিনি দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৫০টি চারা রোপণ করেন। সেই বাগান থেকে পারিবারিক সব খরচ নির্বাহ করার পরও প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নগদ উদ্বৃত্ত আয় ঘরে তোলেন।

তার বাগানে উৎপাদিত একেকটি পেঁপের ওজন হয়েছে ৫ কেজি ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত। অধিকাংশ পেঁপে সাধারণত আড়াই থেকে ৩ কেজি ওজনের হলেও কোনো কোনোটি ৫ থেকে ৬ কেজি পর্যন্ত পৌঁছায় এবং প্রতিটি গাছেই গড়ে এক কেজির বেশি ওজনের ফলন আসে।

বিশেষ করে স্থানীয় লাল মাটির উপযোগী দেশি শাহী জাতের পেঁপে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ফলন পেয়েছেন। একটি ভালো গাছ থেকে মৌসুমে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পেঁপে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। ফলনের মান অনুযায়ী একটি গাছ থেকেই দেড় হাজার, আড়াই হাজার কিংবা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ফল বিক্রি করতে পেরেছেন তিনি।

চাষের সময়রেখা তুলে ধরে তিনি জানান, চারা রোপণের পর ফুল আসতে সময় লাগে দুই মাস এবং পেঁপে পরিপক্ব হতে প্রায় ছয় মাস সময় নেয়। একবার ফল পাকা শুরু হলে টানা দুই বছর পর্যন্ত সেই গাছ থেকে নিয়মিত ফলন বিক্রি করা যায়।

বিগত ১০ বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি পাঁচবার সর্বোচ্চ ফলন ও লাভের স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান যে আন্তরিক যত্ন নিশ্চিত করতে পারলে এই চাষে লোকসানের কোনো আশঙ্কা থাকে না।

অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগের তুলনায় কৃষিকাজকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত পেশা হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বাধীনভাবে নিজের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করে প্রতিদিন অর্থ উপার্জনের যে মানসিক তৃপ্তি রয়েছে, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

বাবার দিকনির্দেশনা স্মরণ করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই লাখ টাকা খরচ করে পেঁপে চাষ করলে ন্যূনতম তিন লাখ টাকা নিশ্চিতভাবেই ফিরে আসে এবং অনুকূল ফলন পেলে তা পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা এনে দেয়। আপেল বা আঙুরের মতো উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলের তুলনায় সাধারণ মানুষের জন্য ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরের পুষ্টিকর পেঁপে অত্যন্ত সহজলভ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত।