সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
ঢাকার বেসরকারি খাতের চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফিরে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে চাষ করে ব্যাপক আর্থিক সফলতা পেয়েছেন নাটোরের এক তরুণ উদ্যোক্তা। সিংড়া থানার চৌগ্রাম ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের মুষ্টিকর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জিলুর রহমান এই অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন। জিলুর জানান, ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার পর প্রাথমিকভাবে অন্যান্য সবজি আবাদ শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে চাচার সঙ্গে মিলে ইউটিউবে বিভিন্ন জাত সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পর বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তারা `এগ্রো ওয়ান` কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করে `সুইট বল` এবং `রেড কিং` জাতের চারা সংগ্রহ করে বাগানে রোপণ করেন।
বাগানে মোট একশত পঞ্চাশটি পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন তিনি। গাছগুলোর গড় উচ্চতা মাত্র চার ফুট হলেও, এর মধ্যে তিন ফুট অংশ জুড়েই ফলন ধরেছে। প্রতিটি গাছে বর্তমানে গড়ে আঠারোটি করে বড় পেঁপে রয়েছে। প্রতিটি পেঁপের ওজন প্রায় তিন কেজি করে ধরলে শুধু বড় ফলগুলো থেকেই গাছপ্রতি চুয়ান্ন কেজি ফলন মিলছে, যার বাইরেও গাছে আরও ছোট পেঁপে আসছে বলে জানান এই চাষি। শুরুতে গ্রামের অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন।
জিলুর বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় অনেকেই বলেছিল পেঁপে লাগিয়ে কী ব্যবসা হবে, বাজারে তো দশ টাকা কেজি পাওয়া যায়। কিন্তু গাছ বড় হওয়ার পর ফলন দেখে এখন সবাই খুশি। বর্তমানে তার উৎপাদিত কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ত্রিশ টাকায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাকা পেঁপে স্থানীয়ভাবে প্রতি কেজি সত্তর টাকা দরে বিক্রি করছেন তিনি। সাত মাস বয়সী এই বাগানে চারা রোপণের মাত্র পাঁচ মাস পর থেকেই ফল সংগ্রহ বা হারভেস্ট শুরু হয়।
বাগানের যত্নের বিষয়ে জিলুর জানান, তিনি নিয়মিত মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী স্প্রে করেন। পঁচিশ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে একবার গাছের গোড়ায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় এবং আট থেকে দশ দিন পরপর হালকা স্প্রে দেওয়ায় গাছে কোনো ভাইরাসের আক্রমণ হয়নি।
নতুন চাষিদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জিলুর। তার মতে, কৃষিকাজে একবার লোকসান হলেই হাল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। ধৈর্য ধরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে লেগে থাকলে পেঁপে চাষ থেকে শতভাগ লাভবান হওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন এই সফল তরুণ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন