সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১২:১২ পিএম
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে `ইন্ডিয়ান সুপার ভাগওয়া` জাতের আনার বা বেদানার চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তা শুভ। দেশের বাজারে এখন সরাসরি এই বাগানের ফলই বিক্রি হচ্ছে। বাগান মালিক শুভ জানান, তার তিন বছর বয়সী গাছগুলোতে এবার অভাবনীয় ফলন এসেছে। প্রতিটি গাছে ২০০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত আনার ধরেছে, যা থেকে গাছপ্রতি ১০ থেকে ১৫ কেজি ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সারা বছরই এই বাগানে ফলন থাকে। বর্তমান লটের হারভেস্ট বা ফল সংগ্রহ চলবে প্রায় আড়াই মাস ধরে।
পরিপক্ব বড় ফলগুলো আগে তুলে ছোটগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বাগান থেকে ২৫ থেকে ৩০ কেজি আনার সরাসরি বিক্রি হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২০০ কেজি ফল বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে এবং নতুন করে আরও ১০০ কেজির পাইকারি অর্ডার প্রস্তুত করা হচ্ছে। বাগানে সরাসরি খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আনার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকার অনুযায়ী চার কেজির একটি ঝুড়ির দাম পড়ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা। পিস হিসেবে কিনলে বাগান থেকে একটি আনার ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যায়, যা সাধারণ বাজারে ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়।
বাগানের আকার নিয়ে শুভ জানান, শুরুতে মাত্র দুই বিঘা জমিতে তিনি চাষ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার বাগানের পরিধি বেড়েছে। নতুন করে আরও পাঁচ বিঘা জমিতে বাগান সম্প্রসারণ করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে ছোট-বড় প্রায় সাতশত থেকে আটশত গাছ রয়েছে তার। এর মধ্যে আড়াইশো গাছ বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ফলন দিচ্ছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে বাকি গাছগুলোও উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোপণ দূরত্ব সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই উদ্যোক্তা জানান, শুরুতে তিনি পাঁচ হাত বাই সাত হাত দূরত্বে চারা রোপণ করেছিলেন, যা তিন বছরের মাথায় একে অপরের সঙ্গে লেগে গেছে।
একে নিজের একটি ভুল সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি নতুন চাষিদের ১০ হাত বাই ৮ হাত দূরত্বে চারা লাগানোর পরামর্শ দেন। এই মাপে এক বিঘা জমিতে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০টি চারা রোপণ করা সম্ভব। পরিচর্যার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে সাত থেকে দশ দিন পরপর বাগানে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়।
অনেকের আনার বাগানে ফুল বা ফল ঝরে যাওয়ার যে অভিযোগ থাকে, তা জাতের কোনো সমস্যা নয় বরং পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব বলে মনে করেন তিনি। অতিরিক্ত ফলের ভার কমাতে ১০ শতাংশ আনার গাছ থেকেই ছিঁড়ে ফেলতে হয়েছে তাকে। নতুন যারা আনার চাষে আগ্রহী, তাদের উদ্দেশে শুভ পরামর্শ দেন, শুধু ইন্টারনেট বা অন্যের কথা শুনে প্রলুব্ধ হয়ে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। সরাসরি বাগান পরিদর্শন করে, ফল খেয়ে এবং বিস্তারিত বুঝে তবেই এই ব্যবসায় আসা উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন