সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
বর্ষাকালে আধুনিক বেড সিস্টেমে সঠিক নিয়মে ধনিয়া পাতার চাষ করে ব্যাপক আর্থিক সফলতা পাচ্ছেন কৃষকেরা। এক বিঘা জমিতে সঠিক পদ্ধতিতে এই চাষ করতে পারলে মাত্র ত্রিশ দিনেই তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষি পরামর্শক মোহাম্মদ তারেক তার এক বিঘা জমিতে এই আধুনিক পদ্ধতিতে ধনিয়া চাষ করে ইতিমধ্যে চমক দেখিয়েছেন। তিনি জানান, বর্ষাকালে ধনিয়া চাষের প্রথম শর্ত হলো বেড পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত করা। তার জমিতে চার ফুটের বেড এবং দেড় ফুটের ড্রেন তৈরি করা হয়েছে।
জমি প্রস্তুতির জন্য রাসায়নিক সারের একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপও উল্লেখ করেন তিনি। বিঘাপ্রতি এক বস্তা ডিএপি সারের পাশাপাশি দশ কেজি জিপসাম, বিশ কেজি এমওপি, পাঁচ থেকে দশ কেজি ইউরিয়া, এক কেজি জিংক, এক কেজি আরগন, এক কেজি সালফার, দুই কেজি হিউমিক এসিড এবং আধা কেজি ট্রাইকোডার্মা বা ম্যানকোজেব মেশাতে হয়। এই সারগুলো একসাথে মিশিয়ে জমিতে ছিটিয়ে একদিন রেখে দেওয়ার পর মাটি ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে হয়।
বীজ রোপণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারেক জানান, মরক্কো জাতের বীজ এক ঘণ্টা রোদে শুকিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে বারো ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর প্রোভেক্স নামের ছত্রাকনাশক দিয়ে আধা ঘণ্টা শোধন করে বীজ মাটিতে ছিটানো হয়। বর্ষাকালে ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ না করে, বীজ ছিটিয়ে আঁচড়া দিয়ে টেনে মাটির নিচে দিয়ে দিতে হয়। এরপর দুই পাশ থেকে শ্রমিক দিয়ে মাটি সমান করতে হয়। আগাছা দমনের জন্য রোপণের পরপরই `পানিরা ফিক্স` স্প্রে করার পরামর্শ দেন তিনি।
বীজ রোপণ থেকে ধনিয়া পাতা বাজারে বিক্রি করতে সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ দিন সময় লাগে। এক বিঘায় পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ কেজি বীজ দেওয়া হয় বলে চারা বেশ ঘন হয়। ফলে নিচের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া বা পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। পচন দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম এবং পচন না থাকলে ম্যানকোজেব স্প্রে করতে হয়। পাতা সুস্থ ও দাগমুক্ত রাখতে দুই থেকে তিন দিন পরপর জম্প বা সেলটিমার মতো ছত্রাকনাশক স্প্রে করার কথা জানান তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এই চাষকে `লটারির মতো` উল্লেখ করেন তারেক। তিনি বলেন, এর আগে এক বিঘা জমি থেকে তার আড়াই লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছিল। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ধনিয়া পাতা দুইশত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্ষা বাড়লে নিচু এলাকা তলিয়ে গিয়ে সরবরাহ কমে গেলে এর দাম চারশত থেকে পাঁচশত টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে তার প্রত্যাশা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন