সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী চব্বিশ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একাশি-তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো এই বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে চার দশকেরও বেশি সময়ের এক ঐতিহাসিক পারিবারিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হতে চলেছে। তাঁর আগে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের একাদশ বিশেষ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছিলেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই ভাষণে তিনি ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। ঠিক তেরো বছর পর ১৯৯৩ সালের পহেলা অক্টোবর সাধারণ পরিষদের আটচল্লিশ-তম অধিবেশনে প্রথম বক্তব্য রাখেন তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের নথি অনুসারে ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে সংস্থার সুবর্ণজয়ন্তী স্মারক সভা, ২০০২ সালে শিশুদের ওপর সাতাশ-তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ষাট-তম অধিবেশনের দুটি পৃথক বৈঠক অন্যতম। এবার বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন তাঁর সন্তান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী একুশ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান বিশ্বনেতাদের সামনে দেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন সরকারপ্রধান। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল, বৈশ্বিক শান্তি এবং সংকট সমাধানের টেকসই রূপরেখা স্থান পাবে বলে জানান তিনি। দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও জলবায়ু তহবিলের পাশাপাশি এবারের সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের একাশি-তম অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বয়ে এনেছে কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পরিচালনা করছেন। জাতিসংঘের খসড়া সূচি অনুযায়ী সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক সাধারণ বিতর্ক চলবে আগামী বাইশ থেকে ছাব্বিশ সেপ্টেম্বর এবং আটাশ সেপ্টেম্বর। ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া সেই কূটনৈতিক পরম্পরা ২০২৬ সালে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন