রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে  আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর আয়োজনে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন তিনি। এমন প্রেক্ষাপটের পরই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গতি ফেরাতে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরালো হয়েছে।   সফরটি আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে আয়োজন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।   

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে এতে অংশ নেননি প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গত আগস্টেও তারেক রহমানকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। সেই প্রস্তাবটিও তখন চূড়ান্ত রূপ পায়নি। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর প্রথমবার তাকে আনুষ্ঠানিক সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।   ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং নয়াদিল্লির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে কাজ করছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যস্ততা ও ঢাকার অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির সঙ্গে সমন্বয় করে একটি গ্রহণযোগ্য দিনক্ষণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আশা তৈরি হলেও গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি প্রকাশ্য বক্তব্যের পর নতুন করে চাপ দেখা দেয়।

এর ওপর জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রায় ঘোষণা হয়েছে। সেই রায় কার্যকরে তাকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।   বাংলাদেশ পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে যে কোনো শীর্ষ পর্যায়ের সফরের আগে উপযুক্ত কূটনৈতিক পরিবেশ তৈরি জরুরি।শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধে নয়াদিল্লি কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে জানতে চাইছে ঢাকা। 

ভারত এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করেনি। ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যুটি আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে গেছে এবং তা নতুন সফর চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষ একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।