শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে পারবেন না যেসব ব্যক্তি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে পারবেন না যেসব ব্যক্তি

ছবি: সংগৃহীত

২০২৭ সালের পবিত্র হজে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিকদের চলমান নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা পার হওয়ার পর নিবন্ধনের মেয়াদ আর কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না বলে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সময়সীমা অতিক্রমের পরপরই সৌদি সরকারের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে মোট কতজন নাগরিক আগামী বছর হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন, সেই চূড়ান্ত পরিসংখ্যান সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা দ্রুত প্রণয়নে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হজ প্যাকেজ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত ও বয়সসীমার শর্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কোনো হজযাত্রী সরাসরি মূল নিবন্ধন করতে পারবেন না, পূর্বে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সি কোনো শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন না। কেবল ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ সুস্থ ব্যক্তিরাই আগামী বছর হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আদালত বা উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দেশত্যাগ অথবা সৌদি আরবে প্রবেশে আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকা ব্যক্তিরাও হজে অংশ নিতে পারবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শারীরিক প্রধান অঙ্গের গুরুতর অকার্যকারিতা, যেমন হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এর পাশাপাশি স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধি এবং স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার রোগীরাও যেতে পারবেন না। কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি কিংবা রেডিওথেরাপির মতো নিবিড় চিকিৎসাধীন সক্রিয় ক্যানসার রোগী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

নারী হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস এবং যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা এই পবিত্র সফরে অংশ নিতে পারবেন না। তবে ৭০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সি প্রবীণ ব্যক্তিরা হজে যেতে চাইলে তাদের সাথে সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য ৫০ বছরের কম বয়সি একজন সুস্থ ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে সঙ্গী হিসেবে নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে মন্ত্রণালয়।