সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় এগারো দলীয় জোটের লংমার্চ চলাকালে আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবী নামের দুই জামায়াত নেতাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এই হামলার জন্য জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক এই হামলায় আহত এক নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে। জামায়াত নেতাদের ভাষ্যমতে, ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী এগারো দলীয় জোটের লংমার্চের মূল গাড়িবহরটি যমুনা সেতু অতিক্রম করে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকা দিয়ে চলে যায়। এরপর জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ আদায় করতে স্থানীয় একটি মসজিদে প্রবেশ করেন। নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় স্থানীয় বিএনপির কর্মী পারভেজ, আলামিন ও হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবীর ওপর আকস্মিক হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে তারা দুজনই রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে আব্দুস সবুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জামায়াত নেতৃত্বের আরও দাবি, সকাল থেকেই বিএনপির কর্মীরা লংমার্চের মূল বহরে বাধা ও হামলার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বহরে আঘাত হানতে না পারলেও মূল বহর এলাকা ত্যাগ করার পর একা পেয়ে লোকজনের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালায়।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা শহিদুল ইসলাম জানান, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর সম্পূর্ণ অতর্কিতভাবে এই রক্তাক্ত হামলা করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত সবুরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ায় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি। সয়দাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিক সরকার দাবি করেন, জামায়াত নেতাদের উত্থাপিত এই অভিযোগ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি অভিযোগ করেন, উল্টো জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আল আমিন নামের তাদের এক কর্মীকে শারীরিকভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছেন, যার পক্ষে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছেন। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং বিএনপির দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান জানান, তারা স্থানীয়ভাবে ঘটনার বিষয়ে শুনেছেন। ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন