শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
উন্নত কৃষি সম্ভাবনা

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেল চাষে বরিশালে বিপুল সম্ভাবনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

ভিয়েতনামী খাটো নারিকেল চাষে বরিশালে বিপুল সম্ভাবনা

দেশীয় সনাতনী গাছের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি ফলন পাওয়ায় দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারিকেল চাষ। দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা ও উপকূলীয় জলবায়ুকে কাজে লাগিয়ে বরিশালের রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ ভিয়েতনামী নারিকেলের প্রদর্শনী ও মাতৃবাগান। ২০১৬ সালের শেষের দিকে এক একর ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৪০০টি চারা রোপণের মাধ্যমে এই রাষ্ট্রীয় বাগানের সূচনা হয়েছিল। নিবিড় বৈজ্ঞানিক পরিচর্যার কারণে রোপণের দুই থেকে তিন বছরের মাথায় গাছে ফলন আসে এবং বর্তমানে প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে দেড়শত থেকে তিনশত পর্যন্ত ডাব ও নারিকেল উৎপাদিত হচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে নারিকেল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ ওলিউলার তথ্যমতে, বাগানে মূলত সিয়াম ব্লু ও সিয়াম গ্রিন নামের দুটি ভিয়েতনামী জাতের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিয়াম ব্লু জাতটির ফলনের হার সিয়াম গ্রিনের চেয়ে তুলনামূলক বেশি এবং এর ডাব কিছুটা হলুদাভ রঙের হয়ে থাকে। একটি পরিপক্ব ডাবে প্রায় দুই গ্লাস পর্যন্ত মিষ্টি ও সুগন্ধযুক্ত পানি পাওয়া যায় এবং এতে সনাতন জাতের চেয়ে ছোবড়ার পুরুত্ব কম হয়ে শাঁসের অনুপাত অনেক বেশি থাকে। সাধারণত ফুল ফোটা থেকে শুরু করে ডাব খাওয়ার উপযোগী হতে নয় থেকে দশ মাস সময় লাগে এবং ভাদ্র মাসের দিকে এগুলো পুরোপুরি পেকে বীজ বা ঝুনো নারিকেলে পরিণত হয়।

নিম্নভূমি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এড়াতে এখানে নারিকেল বাগান গড়ে তোলা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সরজন পদ্ধতিতে। উঁচু কান্দির দুই পাশে নালা কেটে পানি ধরে রাখার ফলে খরা মৌসুমে সেচের পানির তীব্র চাহিদা মেটানো সহজ হয়। তবে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব কমপক্ষে ছয় মিটার থেকে আট বা দশ মিটার বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় অপর্যাপ্ত দূরত্বের কারণে সূর্যালোকের সন্ধানে খাটো জাতের গাছগুলো অস্বাভাবিক লম্বা হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন উদ্যান বিশেষজ্ঞরা। নতুন চারা রোপণের জন্য দুই হাত বাই দুই হাত আকারের গর্ত খুঁড়ে তাতে ৩০ থেকে ৪০ কেজি পচা গোবর বা জৈব সার, ৫০০ গ্রাম সরিষার খৈল, ৩০০ গ্রাম টিএসপি, ৪০০ গ্রাম পটাশ, ২০০ গ্রাম ফুরাডন এবং মাটির ছত্রাক ও রোগজীবাণু নিয়ন্ত্রণে ১০০ গ্রাম কার্বেনডাজিম প্রয়োগ করতে হয়। সার দেওয়ার দশ থেকে ১৫ দিন পর এক বছর বয়সী সুস্থ চারা রোপণ করা উত্তম। পরবর্তী সময়ে মাটিতে বোরনের অভাব দেখা দিলে ডাব ফেটে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়। তাই প্রতি গাছে বছরে ২০০ গ্রাম বোরন দেওয়ার পাশাপাশি তিন মাস পর পর চার কিস্তিতে নিয়মিত সুষম সার প্রয়োগ করতে হয়। তবে গাছ ফলবতী হলে ইউরিয়া সারের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনতে হবে।

এ ছাড়া গাছে লাল মাকড় ও সাদা মাছির মতো ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব ঠেকাতে ছয় মাস পর পর অনুমোদিত মাকড়নাশক এবং ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে বর্তমানে এই বাগান থেকেই খাঁটি জাতের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা বিদেশ থেকে চারা আমদানির নির্ভরতা কমিয়েছে। রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টার থেকে সাধারণ কৃষকেরা নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা পুস্তিকা গ্রহণ করে প্রতিটি চারা মাত্র ৩০০ টাকা সরকারি মূল্যে সংগ্রহ করতে পারছেন।