শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
হাওরে হাঁস পালন

হাওরে হাঁস পালন করে মাসে লাখ টাকা লাভ আকবরের

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

হাওরে হাঁস পালন করে মাসে লাখ টাকা লাভ আকবরের

নেত্রকোনার ভাটি অঞ্চল মোহনগঞ্জের উন্মুক্ত হাওর ও বিলে দেশীয় প্রযুক্তিতে হাঁস পালন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রান্তিক খামারি মোহাম্মদ আকবর। পাইকদার বিলের উন্মুক্ত জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা তার খামারে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার খাকি ক্যাম্বেল জাতের হাঁস রয়েছে। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকে হাঁস লালন-পালনের সাথে যুক্ত থাকা এই তরুণ বর্তমানে ২৮ বছর বয়সে এসে একটি লাভজনক বাণিজ্যিক উদ্যোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

হাওরের প্রাকৃতিক জলাশয়ই এখানকার খামারিদের টিকে থাকার মূল অবলম্বন। সকালে পাইকদার বিলের পানিতে হাঁসের ঝাঁক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বিকেল পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে সেগুলোকে আবার নিরাপদ খামারে ফিরিয়ে আনা হয়। বিলে উন্মুক্ত চারণের কারণে প্রাকৃতিক জলজ খাবার মেলায় উৎপাদন খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে বিলের প্রাকৃতিক খাদ্যের বাইরেও প্রতিদিন খামারে গড়ে পাঁচ হাজার টাকার দানাদার খাবার দিতে হয়। তার খামার থেকে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার ডিম সংগ্রহ করা হয়, যা পাইকারি বাজারে প্রতি একশত ডিম এক হাজার ৩০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করলে দৈনিক প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ টাকার মতো আয় হয়। খামারের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও হাঁস দেখাশোনার কাজে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে তিনজন সার্বক্ষণিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন, যাদের পেছনে মাসিক বেতন বাবদ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

খামারের অভ্যন্তরীণ সব খরচ ও শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বাদে উন্মুক্ত মৌসুমে প্রতি মাসে তার এক লাখ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা থাকে। তবে শীতের শুকনো মৌসুমে আশ্বিন থেকে পৌষ পর্যন্ত চার-পাঁচ মাস যখন হাওরের পানি শুকিয়ে যায়, তখন হাঁসগুলোকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হয়। সে সময় প্রাকৃতিক খাবারের অভাব পূরণ করতে ধান, গম, ভুট্টা ও পোলট্রি ফিড কিনে খাওয়াতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। হাঁস পালনে সাধারণত ডাক প্লেগ, কলেরা ও সর্দি-কাশির মতো সংক্রামক রোগের ঝুঁকি থাকে, যার জন্য নিয়মিত প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও ছায়াযুক্ত স্থানে পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। সাধারণত এক দিন বয়সী বাচ্চা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে কিনে এনে প্রথম এক মাস কৃত্রিম তাপে নিবিড় পরিচর্যা করা হয়। ধীরে ধীরে পানিতে অভ্যস্ত করিয়ে পাঁচ মাস বয়স থেকে হাঁস পূর্ণমাত্রায় ডিম দেওয়া শুরু করে এবং এক বছর একটানা ডিম দেওয়ার পর সেগুলোকে মাংস হিসেবে বিক্রি করে নতুন ব্যাচ আনা হয়। মোহনগঞ্জের বিখ্যাত ডিমের পাইকারি বাজারে প্রতি বুধবার আশেপাশের খামারিরা তাদের সংগৃহীত ডিম বিক্রি করতে নিয়ে যান।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে মোহনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ডিমের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে কমে যাওয়ায় সাধারণ খামারিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অন্য সময় প্রতি একশত ডিম এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকায়। ক্ষুদ্র খামারিরা জানান, বাজারে এক মণ ধানের দাম এক হাজার ৫০০ টাকা এবং পোলট্রি খাদ্যের প্রতি বস্তা তিন হাজার থেকে তিন হাজার ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে উচ্চ উৎপাদন খরচের বিপরীতে হঠাৎ পাইকারি দাম কমে যাওয়ায় প্রান্তিক খামারিরা ঋণের মুখে পড়ছেন।