সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
নিজেদের তৈরি সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল `জেমিনি` নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ভুলবশত বাইরের তিনটি প্রকৃত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার সিস্টেমে ঢুকে পড়েছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে টেক জায়ান্ট গুগল। এর কিছুদিন আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও প্রায় একই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ্যে এসেছিল। ফলে অতি শক্তিশালী এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলগুলো নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ সক্রিয় হয়ে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটে। গত মে মাসে ইসরায়েলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিরাপত্তা যাচাইকারী বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান `ইরেগুলার` যখন জেমিনির সক্ষমতা পরীক্ষা করছিল, তখন এই ঘটনাটি ঘটে। একটি বিচ্ছিন্ন নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সম্পূর্ণ কাল্পনিক কিছু করপোরেট নাম ব্যবহার করে জেমিনির সার্বিক নিরাপত্তা কাঠামো কতটা সুদৃঢ়, তা যাচাই করা হচ্ছিল। পুরো পরীক্ষাটি ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রেখে পরিচালনা করার কথা থাকলেও প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে ইন্টারনেট সংযোগটি চালু হয়ে যায়। এরপরই ঘটে মূল বিপত্তি।
পরীক্ষার জন্য সাজানো কাল্পনিক কোম্পানিগুলোর নামের সঙ্গে ইন্টারনেটে থাকা বাস্তব জীবনের কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নামের মিল খুঁজে পায় জেমিনি। এরপর প্রযুক্তিটি ইন্টারনেট থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে যুক্তিসংগত উপায়ে সম্ভাব্য পাসওয়ার্ড অনুমান করে ফেলে এবং সেই বাস্তব কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে প্রবেশ করে। তবে অনুপ্রবেশ করা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কাল্পনিক কাঠামো নয় বরং বাস্তব বিশ্বের সক্রিয় প্রতিষ্ঠান—এটি শনাক্ত করতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই জেমিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কার্যকলাপ বন্ধ করে দেয়।
গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কোনো ধরনের তথ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি না হওয়ায় খবরটি তাৎক্ষণিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি, তবে যে তিনটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়েছিল তাদের বিষয়টি সময়মতো অবহিত করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক পূর্বে তাদের নিজেদের প্রযুক্তিতে নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর নিজেরাই স্বেচ্ছায় দ্রুত সেই ভুলের কথা বিশ্ববাসীর কাছে স্বীকার করেছিল।
এই গুরুতর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বৈশ্বিক প্রযুক্তি রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়ন সাময়িকভাবে পুরোপুরি স্থগিত রাখার দাবি তুলেছেন। তার এই কড়া অবস্থানের মুখে ওপেনএআই তাদের নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির উন্নয়নমূলক কাজ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। অন্যদিকে শীর্ষস্থানীয় এআই প্ল্যাটফর্ম অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই মত প্রকাশ করেছেন যে, নির্ভরযোগ্য ও নিখুঁত নিরাপত্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত সারা বিশ্বেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবনের সামগ্রিক গতি কিছুটা কমিয়ে রাখা উচিত।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন