বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

টিসিবির সেবায় বড় ডিজিটাল পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

টিসিবির সেবায় বড় ডিজিটাল পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি

ছবি: সংগৃহীত

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের সার্বিক সেবাকে স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহিতার আওতায় আনতে সংস্থাটির কার্যক্রমে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পণ্য বিতরণ তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক রিয়েল-টাইম নজরদারি ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে একটি বিশেষ এআইভিত্তিক কন্টাক্ট সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সংস্থাটির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ডিজিটাল রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বল্পমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সরকারি তথ্যাবলি কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯ লাখ অযোগ্য আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে একটি কার্যকর ডিজিটাল ডেটাবেস প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৭৯ লাখ পরিবার টিসিবির সরাসরি সুবিধার আওতায় রয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে এক কোটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে ‍‍`উপকারী‍‍` নামের একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজের কার্ডের পাশাপাশি নিরাপদ এনক্রিপ্টেড কিউআর কোড স্ক্যান করে উপকারভোগীর সঠিক পরিচয় ও বরাদ্দ যাচাই করা সম্ভব হবে, যার ফলে কার্ড হারিয়ে বা নষ্ট হলেও প্রকৃত নাগরিকরা পণ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না। সেই সঙ্গে ডিলার নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে অনলাইন ডিলার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হচ্ছে, যেখানে আবেদন যাচাইয়ের পর প্রয়োজনে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে ডিলার চূড়ান্ত করা হবে। ভবিষ্যতে অল-ইন-ওয়ান পিওএস মেশিনের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য বিক্রি, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং তাৎক্ষণিক ডিজিটাল রশিদ প্রদানের ব্যবস্থা যুক্ত করার কাজ চলছে।

এসব সমন্বিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে সরকারের প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকার ভর্তুকি সাশ্রয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে কার্যকর নজরদারি ও ডেটা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপচয় কমিয়ে এনে টিসিবির ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা হবে।

টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।