আগস্ট ৭, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
দেশের স্বর্ণ খাতকে অনানুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা থেকে বের করে একটি সম্পূর্ণ বৈধ, স্বীকৃত এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবসায়িক খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই লক্ষে সম্প্রতি প্রণীত ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’-এর খসড়ার ওপর সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অংশীজনদের আগামী রবিবারের মধ্যে লিখিত মতামত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত খসড়া নীতিমালা পর্যালোচনা সভায় এই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের পরিচালনায় সভায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রাপ্ত মতামতগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধিত স্বর্ণ নীতিমালা চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে স্বর্ণ খাত এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণের ক্রয়, বিক্রয় এবং মজুতের প্রতিটি ধাপ সুনির্দিষ্ট হিসাবের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুবাইসহ প্রধান আন্তর্জাতিক স্বর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে শুল্ক ও করহার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যাতে চোরাচালানের প্রবণতা হ্রাস পায়।
নতুন এই নীতিমালায় কেবল স্বর্ণ আমদানির ওপর নির্ভরতা নয়, বরং দেশে মূল্য সংযোজন করে স্বর্ণালংকার উৎপাদন ও তা বিদেশে রপ্তানির বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যৌক্তিক শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে দেশীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য কোনো জটিলতা তৈরি করা নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা করে একটি টেকসই স্বর্ণশিল্প গড়ে তোলা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন